আফগানিস্তানে নিষিদ্ধ টিকটক, পাবজি (ভিডিও)

169

টিকটক ও পাবজি নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। ইতোমধ্যে সরকার থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা কার্যকরী করা হয়েছে দেশটিতে। টিকটক ও পাবজির কারণে আফগানিস্তানের তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে সেগুলো নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, টিকটক ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় ধরে পাবজি খেলার মাধ্যমে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। তাদের সুপথে ফেরাতেই তালেবান সরকারের এই পদক্ষেপ।

২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই দেশটিতে গান, বাজনা, নাটক, সিনেমাসহ সব ধরনের বিনোদন মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

বিনোদনের সব মাধ্যম অচল করে দেওয়ায় আফগান তরুণ-তরুণীরা টিকটক এবং পাবজিতে ঝুঁকে পড়েন। খুঁজে ফেরেন বিনোদনের রসদ। ঠিক এমন সময়েই টিকটক আর পাবজির ওপর এবার নিষেধাজ্ঞার খড়গ ঝুলিয়ে দিল আফগান সরকার।

বলাই বাহুল্য, তালেবান সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ভীষণ ক্ষুব্ধ আফগান তরুণরা। কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের সাহস পর্যন্ত তাদের নেই।

অথচ ক্ষমতা দখলের পর তালেবান নেতারা অঙ্গীকার করেছিলেন, অতীতের মতো চরমপন্থা আর অবলম্বন করবে না নতুন তালেবান সরকার। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সুর পাল্টে যায় তাদের।

আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসতে থাকে। ভয়ংকর জঙ্গী জীবনযাপনে অভ্যস্ত তালেবান নেতারা ক্ষমতার বসার পর দেশের নাগরিকদের জীবনকে রীতিমতো দুর্বিষহ করে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

ক্ষমতায় এসেই দেশটির নারীদের ওপর চড়াও হয় তালেবান সরকার। দেশটির মেয়েদের হাইস্কুলে যেতে বারণ করা হয়। অথচ তালেবান নেতারা নিজেদের কন্যাদের ঠিকই বিদেশে রেখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করছেন।

অন্যদিকে শিক্ষিত ও কর্মজীবী আফগান নারীদের চাকরিতে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নারীদের ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। নিতান্ত প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বের হওয়া মানা আফগান নারীদের। বের হলেও ঘরের কোনো পুরুষ সদস্যকে নিয়ে বের হতে হবে।

এছাড়া ঘুড়ি ওড়ানো, কবুতর ওড়ানোর প্রতিযোগিতার মতো খুব সাধারণ বিষয়গুলোও ধর্মীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় আফগানিস্তানে।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের জনসংখ্যা ৩ কোটি ৮০ লাখ। তাদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৯০ লাখ মানুষ।