ঠাকুরগাঁওয়ে গর্ভবতীকে থাপড়, নিউজ টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরা ছিনতাই (ভিডিও)

160
রোগী ও স্বজনদের সাথে বাকবিতন্ডা হলে চিকিৎসকের কর্মচারী আশিক গর্ভবতী ওই নারীকে থাপড় মারেন।
রোগী ও স্বজনদের সাথে বাকবিতন্ডা হলে চিকিৎসকের কর্মচারী আশিক গর্ভবতী ওই নারীকে থাপড় মারেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টেস্ট না করায় এক গর্ভবতী নারী ও তার স্বজনদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের নিরাপদ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি চিকিৎসক স্মৃতি হকের চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে। তবে চিকিৎসকের দাবি, মারধরের ঘটনা তিনি চেম্বার থেকে চলে যাওয়ার পর ঘটেছে। তাই তার কিছুই করার নেই।

ভুক্তভোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার নিয়মিত গাইনি চিকিৎসক স্মৃতি হকের কাছে পরামর্শ নিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে পরামর্শ নিতে গেলে ওই গাইনি চিকিৎসক তার মনোনীত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রসনোগ্রামসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বলেন।

এসময় রোগী ও স্বজনরা অর্থ সাশ্রয় হওয়ায় অনত্র পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে হাজির হন চিকিৎসকের কাছে। এতে ক্ষিপ্ত হন চিকিৎসক। তার মনমতো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কেন পরীক্ষা করা হয়নি সে কারণে রিপোর্ট না দেখে ফেলে দেন। পুনরায় টেস্ট করাতে বলেন সেখানেই।

এসময় রোগী ও স্বজনদের সাথে বাকবিতন্ডা হলে চিকিৎসকের কর্মচারী আশিক গর্ভবতী ওই নারীকে থাপড় মারেন। রোগীর সাথে থাকা বৃদ্ধা মা ও ভাসুর জাহাঙ্গীর ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে নিরাপদ ক্লিনিকের ক্যাশ ম্যানেজার রাসেলসহ বেশ কয়েকজন মিলে তাদেরকেও মারধর করেন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করলে তাদের সাথেও খারাপ আচরণ করা হয়। এমনকি নিউজ টোয়েন্টিফোরের ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে যান ক্যাশ ম্যানেজার রাসেল। এমন অভিযোগ করেছেন নিউজ টোয়েন্টিফোর ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু। সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকিও দেন রাসেল। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।

নিউজ টোয়েন্টিফোর ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু অভিযোগ করে বলেন, আমি নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার আগে আমার সহকর্মী রেদওয়ানুল হক মিলনসহ কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ক্যাশ ম্যানেজার রাসেলসহ বেশ কয়েকজন আমাদের লাঞ্ছিত করে। শুধু তাই নয়, ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আমি ছিনতাই হওয়া ক্যামেরা উদ্ধার ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

রাত সাড়ে ১১টায় ক্যামেরা ছিনতাই ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক আব্দুল লতিফ ক্যামেরা ছিনতাই ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, একজন গর্ভবতী নারীকে ও তার স্বজনদের ক্লিনিকে মারধর ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছনা করে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনাটি খুব দুঃখজনক। ভাবতেও অবাগ লাগে, একজন চিকিৎসকের চেম্বারে এমন ঘটনা কীভাবে হয়। এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া উচিৎ। একজন রোগী তার ইচ্ছেমতো যে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করানো দোষের কিছু না। ডা. স্মৃতি হক তার কথামতো নির্দিষ্ট জায়গায় পরীক্ষা না করানোয় কমিশন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেই তার লোকজনদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। সেই সাথে চিকিৎসকের এমন হীন আচরণ থেকে বেড়িয়ে সেবামূলক আচরণ করা উচিৎ বলে আমরা মনে করি।

ঠাকুরগাঁওয়ে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট না করায় গর্ভবতী নারী ও স্বজনদের মারধর