সুচিত্রা সেন কেন টানা তিন যুগ অন্তরালে ছিলেন?

183
কোন অভিমানে কে জানে, ১৯৭৮ সালে হুট করে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুচিত্রা সেন।
কোন অভিমানে কে জানে, ১৯৭৮ সালে হুট করে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুচিত্রা সেন।

যেসব তারকা খ্যাতির চূড়া স্পর্শ করেন তারা সাধারণত নির্বাসন কিংবা অবসরতত্ত্বে খুব একটা বিশ্বাসী হন না। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পাবনার এক সাধারণ বাঙালি নারী রমা দাশগুপ্ত থেকে টালিউড কাঁপানো অভিনেত্রী হয়ে ওঠা সুচিত্রা সেন।

টালিউড সিনেমায় অভিনয় জীবন শুরুর এক দশকের মাথায় জীবনের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি অর্জন করেন সুচিত্রা সেন। ‘সপ্তপদী’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে নিজের জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক পুরস্কার মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। সুচিত্রা সেনই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি এই পুরস্কার অর্জন করেন। তার আগে আর কোনো ভারতীয় অভিনেত্রীই এই পুরস্কার পাননি।

সুচিত্রা মাথার চেয়ে মনের কথাই বেশি শুনতেন। জেদি স্বভাবের সুচিত্রার দৃঢ়চেতা মনোভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে তার জীবদ্দশায়। বয়স তখনও চল্লিশের কোঠায়। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের অর্ধেক পথ হয়তো মাড়িয়েছেন। সামনে আরও অনেক কিছুই দিতে পারতেন। কিন্তু কোন অভিমানে কে জানে, ১৯৭৮ সালে হুট করে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুচিত্রা সেন।

বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সুচিত্রার দেখা মেলেনি। সবশেষ সুচিত্রা সেনকে দেখা যায় ভোট দিতে। এরপর আর কখনোই জনসকমক্ষে আসেননি তিনি। কিন্তু হঠাৎ কেন উধাও হয়ে গেলেন মহানায়িকা সচিত্রা?

১৯৭৮ সালে সুচিত্রা সেন ‘প্রণয় পাশা’ শিরোনামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেন। এটি ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা। ‘প্রণয় পাশা’ ফ্লপের খাতায় নাম লেখায়। এজন্য সুচিত্রা সেন ভীষণ ভেঙে পড়েন। প্রচন্ড কষ্ট পান মনে।

এরপর সুচিত্রা সেন দীক্ষা নেন রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখানে ধর্মগুরু ভারত মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় সুচিত্রার। এরপর চিরদিনের জন্য স্বেচ্ছা নির্বাসনের পথ বেছে নেন তিনি। এমনকি ২০১৪ সালে মৃত্যুর পরও প্রকাশ্যে আনা হয়নি তার মরদেহ। কারণ মৃত্যুর আগে এমনটাই বলে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। তার শেষ ইচ্ছে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন তার মেয়ে অভিনেত্রী মুনমুন সেন, নাতনি রাইমা সেন, রিয়া সেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।