পুলিশের সামনে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল, এসআই ক্লোজড (ভিডিও)

434

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় পুলিশের সামনে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ঘটনায় পুলিশের এসআই ওয়ারেছ আলীকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশের সামনেই প্রতিপক্ষরা দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছে এক ব্যক্তিকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল চলছে।

ঘটনাটি গত ২৩ মার্চের। সেদিন জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যা করা হয় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের হালুয়াহাটি এলাকার শেখবর আলী (৪৫) নামের এক কাঠমিস্ত্রিকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই দা, রামদা, গরু জবাই করার ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শেখবর আলীর ওপর হামলা চালায় জিকো, তার ভাই জজ মিয়া, সাইফুলসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার আকস্মিকতায় পুলিশও হতবিহ্বল হয়ে যায়। মাত্র এক মিনিট কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এসময় পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকার পরও হামলাকারীদের বাধা না দিয়ে পিছু হটতে থাকে পুলিশ।

শেখবর আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোট ভাই মাহফুজ বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার দিনই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মামলার প্রধান আসামি জিকোসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জাকির হোসেন জিকোর সঙ্গে শেখবর আলীর জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল অনেকদিন ধরে। এর জের ধরে গত ২২ মার্চ প্রতিপক্ষ জিকোসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শেখবর।

ঘটনার তদন্ত করতে পরদিন ২৩ মার্চ বিকেলে ঘটনাস্থলে যান শ্রীবরদী থানা পুলিশের এসআই ওয়ারেছসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এসময় জিকোসহ চার থেকে পাঁচজন অতর্কিতে ধারালো দা, রামদা, ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শেখবর আলীর ওপর হামলা করলে ঘটনাস্থলেই শেখবর আলী নিহত হন।

এর আগে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন জিকো। অল্পের জন্য তিনি মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান। কিন্তু তখন জিকো কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। ওই ঘটনার পরপরই শেখবর আলী ভিটেমাটি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। কোনো মামলা না হলেও জিকো সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর তার পরিবার ‘মারের বদলে মার’ দেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। যে কারণে শেখবর বাড়ি ফেরার পরই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার দিনই অভিযান চালিয়ে জিকোর স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। পরদিন রাতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান রাজাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে একই দিন শ্রীবরদীর বালিজুড়ি এলাকার অরণ্য থেকে মামলার প্রধান আসামি জিকোকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১৪ জামালপুর ক্যাম্পের সিপিসি-১ ইউনিট।

ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দিয়েছেন জিকো ও সাইফুল।