যে কারণে হত্যা করা হয় সোহেল চৌধুরীকে (ভিডিও)

162

দুই যুগ আগে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে যখন হত্যা করা হয় তখন রাজধানীর বনানীতে আবেদীন টাওয়ার ভবনের অষ্টম তলায় ছিল ট্রাম্পস ক্লাব। আর ভবনটির ঠিক পাশেই ছিল ওই সময়ে বনানীর সবচেয়ে বড় মসজিদ বনানী জামে মসজিদ।

ট্রাম্পস ক্লাবে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়ে যেত অশ্লীলতায় পরিপূর্ণ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ, চলতো পুরো রাত। সোহেল চৌধুরী বনানী মসজিদ কমিটিকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার ট্রাম্পস ক্লাবের এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধের উদ্যোগ নেন। কিন্তু লাভ হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক, ব্যবসায়ী, হত্যা-মাদকের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও মাফিয়া ডনখ্যাত আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়। পরে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। ওই ঘটনার পর সোহেল চৌধুরীকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা আঁটেন আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশিষ চৌধুরী এবং বান্টি ইসলাম। এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনকে। দায়িত্ব পাওয়া পর ইমন ও তার লোকজনরা সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করে।

এরপর পেরিয়ে গেছে দু-দুটি যুগ। সুদীর্ঘ ২৪ বছর পর সম্প্রতি সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত এক নম্বর আসামি আশিষ চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‍্যাব।

বুধবার, ৬ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সোহেল চৌধুরীকে হত্যঅর পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সোহেল চৌধুরীর বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের বছর ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ।

মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক বান্টি ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে চলতি বছরের ২০ মার্চ। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

সোহেল চৌধুরীর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন : আজিজ মোহাম্মদ ভাই, বান্টি ইসলাম, আদনান সিদ্দিকী, তারেক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে বস লিটন, ফারুক আব্বাসী, সানজিদুল ইসলাম ইমন এবং আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী।