টিপ পরায় নারী হেনস্তা : জড়িত পুলিশ বরখাস্ত (ভিডিও)

546

টিপ পরায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক লতা সমাদ্দারকে হেনস্তা ও হত্যাচেষ্টাকারী পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করার পর বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম নাজমুল তারেক। তিনি একজন পুলিশ কনস্টেবল। ডিএমপির প্রটেকশন ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন তিনি। পুলিশ লাইন থেকে সংযুক্ত হয়ে তিনি ভিআইপি, ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতেন।

ঢাকা মেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার, ২ এপ্রিল সকালে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় আনন্দ সিনেমা হলের কাছে ইভটিজিংয়ের ওই ঘটনা ঘটে। গ্রিন রোডের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ইভ টিজিংয়ের শিকার হন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার।

ড. লতার অভিযোগ, শনিবার সকালে তিনি তার বাসা থেকে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে দিয়ে সেজান পয়েন্টের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পাশ থেকে পুলিশের পোশাক পরা মধ্যবয়সী ও লম্বা দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, টিপ পরেছিস কেন? ড. লতা পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন, একজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলের ওপর বসে আছেন।

সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ করলে ড. লতাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ওই পুলিশ সদস্য। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেই ক্ষান্ত হয়নি সে। একপর্যায়ে ড. লতার গায়ের ওপর মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা চালায়। ড. লতা দ্রুত সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পান। তবে মোটরসাইকেলের চাপায় তিনি পায়ে আঘাত পান।

ঘটনার পর সেখানে দায়িত্বরত তিনজন ট্রাফিক পুলিশকে ঘটনার কথা জানান ড. লতা। বিস্তারিত জানার পর মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় ট্রাফিক পুলিশ।

ঘটনার পর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নারী প্রভাষক ড. লতা। তিনি পুলিশের পোশাক পরা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইভটিজিংসহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলেন।

ওই ঘটনার খবর প্রকাশিত হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় ওঠে, সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। পরদিন রোববার ইভটিজিংকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংসদে দাবি তোলেন সাংসদ ও দেশের বরেণ্য অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোন আইনে লেখা আছে যে, নারী টিপ পরতে পারবে না?

ঘটনাটি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় উঠলে ওপর মহলের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আশপাশের এলাকার সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে শনাক্ত করা হয়।

ঘটনা সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে দৈনিক সমকালকে বিস্তারিত জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ড. লতা সমাদ্দার।