সবাইকে নব আনন্দে জেগে ওঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

129
বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে সবাইকে নব আনন্দে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে সবাইকে নব আনন্দে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ-১৪২৯। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে সবাইকে নব আনন্দে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতির দিন, বাঙালির মহামিলনের দিন। এদিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণে, নব-অঙ্গীকারে।

সারা বছরের দুঃখ, জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে সবাইকে আজ নব আনন্দে জেগে ওঠার উদাত্ত আহ্বান জানাই।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বর্তমান বিশ্ব বিপর্যস্ত। করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর উৎসব প্রিয় বাঙালি জাতিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে হয়েছে ঘরবন্দী অবস্থায়।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। মোগল সম্রাট আকবর ফসলি সন হিসেবে বাংলা সন গণনার যে সূচনা করেন তা সময়ের পরিক্রমায় আজ সমগ্র বাঙালির কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বাঙালির আত্মপরিচয় ও শেকড়ের সন্ধান মেলে এটি উদযাপনের মধ্য দিয়ে। পহেলা বৈশাখের দিকে তাকালে বাঙালি তার মুখচ্ছবি দেখতে পায়।

বৈশাখ আমাদের নিয়ে যায় অবারিতভাবে বেড়ে ওঠার বাতায়নে, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে, অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে।

পাকিস্তান আমলে ঔপনিবেশিক শক্তি বাঙালির ঐতিহ্যকে নস্যাৎ করতে চেয়েছে। বাঙালিরা দুর্বার প্রতিরোধে আত্মপরিচয় ও স্বীয় সংস্কৃতির শক্তিতে তা প্রতিহত করেছে।

সেই শক্তিকে ধারণ করে শামিল হয়েছে মুক্তির সংগ্রামে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিলিত স্রোত পরিণত হয়েছে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে। এভাবেই বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

এরই ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নববর্ষের এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন। এই পথ বেয়ে বিশ্বসমাজে বাঙালি হয়ে উঠবে শ্রেষ্ঠ জাতি।

পহেলা বৈশাখ নতুন ভাবনা, নতুন এক মাত্রা নিয়ে আসে আমাদের মাঝে। আমরা সৌভাগ্যবান যে, ২০২০-২০২১ সালে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যুগপৎভাবে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেছি। বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ বছর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আমরা উদযাপন করছি মহান ভাষা আন্দোলনের হীরক জয়ন্তী। বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাঙালি বীরের জাতি হিসেবে চিরভাস্মর হয়ে থাকবে যুগ-যুগান্তর।

একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ তথা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ তথা সুখী-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবারের বৈশাখ হবে আমাদের জন্য বিপুল প্রেরণাদায়ী।

বিগত বছরের গ্লানি, পুরাতন স্মৃতি, দুঃখ, বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। এবারের নববর্ষে এই হোক আমাদের প্রত্যয়ী অঙ্গীকার। কবি গুরুর ভাষায়, যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি/যাক অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক, যাক যাক/ এসো, হে বৈশাখ এসো, এসো…।