dark_mode
Sunday, 05 February 2023
Logo
হেনরির যুদ্ধ ও ১০১ বছরের ক্যামেরা

হেনরির যুদ্ধ ও ১০১ বছরের ক্যামেরা

অনলাইন ডেস্ক: হেনরির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল স্পেনের জনপ্রিয়  মালাগা শহরের দ্য প্লাম অব সারপ্রাইজ স্ট্রিটে। ১৫৯ দেশ ভ্রমণ শেষে আমি তখন ফিরছি স্পেনে সবেমাত্র। ছেলেটি যে ক্যামেরা দিয়ে আমার ছবি তুলছে এই ক্যামেরাটির বয়স ১০১ বছর। ইউক্রেন থেকে যুদ্ধের সময় ছুটে এসেছে তার দাদার এই শেষ সম্বলটুকু নিয়ে। যুদ্ধে চলে গেছে পরিবারের সব মানুষ। ও ভর্তি হয়েছিল ইউক্রেনের তারাস শেভচেঙ্কো কিয়েভ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু যুদ্ধের নৃশংসতায় তার জীবন আজ এইখানে। পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি।

অন্ধকারে ঘুমের ঘোরে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিল তার পরিবার। ‌মীরাকলভাবে হলেও ও বেঁচে গেছে। বেঁচে থেকেও এখন প্রতিদিনই তার বেঁচে থাকার যুদ্ধ চলছে। যখন প্রতিদিন ঘুমাতে যায় তখনই তার চোখের কোন নেমে আসে অঝোর কান্না। ও প্রচণ্ড একা। এই ক্যামেরাটি তাকে বাঁচিয়ে রাখছে। এখন সে থাকছে স্পেনের মালাগা শহরে। এই শহরে এই ক্যামেরাটি এখন তার বেঁচে থাকার সম্বল। পয়সার বিনিময়ে সে ছবি তুলে দেয় না, সে টুরিস্টদের খুশি করার জন্যই ছবি তুলে। কেউ যদি খুশি হয়ে তাকে কিছু দেয় তাহলে সেটাই শুধু সে রিসিভ করে।

হেনরি আমাকে বলেছিল, ও যদি কিছু জমা করতে পারে তাহলে সে সেটা দিয়ে স্পেনের গ্রানাডা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবে। যে কোন যুদ্ধ একটা সাজানো-গোছানো সুন্দর দেশকে যেভাবে তছনছ করে দেয় তেমনি মানুষের জীবনকে তছনছ করে দেয় মুহূর্তেই। যুদ্ধের কারণে হেনরির মত আজ বহু শিশু-কিশোর, বৃদ্ধা নিজের ঘরবাড়ি-পরিবারের ভালোবাসা, সুন্দর জীবন ছেড়ে আজ পথে পথে ঘুরছে। হেনরির জন্য আমার খুব মায়া লাগলো। ও অনেক একা। মুক্তিযুদ্ধের উপর পড়া বই গুলোর প্রতিচ্ছবি আর আমার মায়ের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো চোখের সামনে ভেসে আসলো। আমাদের দেশেও বহু মানুষ এখনো বেঁচে আছে যারা যুদ্ধে তাদের পরিবার হারিয়েছে এবং তারা সম্পূর্ণ একা।
আহা! যুদ্ধ আমাদের পৃথিবীর জন্য ভালো কিছু নয়, নানাভাবে এটি পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য একটি বড় বিপর্যয়। এই বিপর্যয় থেকে আমাদের মুক্তি হোক। যুদ্ধ নয়, আমরা শান্তি চাই পৃথিবীতে। ফেরার পথে হেনরি আমাকে বলছিল আমি যখন প্রতিষ্ঠিত হবো তখন তোমার মত পৃথিবীর অনেক দেশ ঘুরবো। আমি বলেছিলাম তোমার স্বপ্নপূরণ হোক। তুমি অনেক পরিশ্রমী ছেলে বাঁচার জন্য লড়ে যাচ্ছো। তুমি অনেক বড় হও অনেক ভালো থেকো যেখানেই থাকো।লেখক: ১৫৯ দেশ ভ্রমণকারী প্রথম বাংলাদেশী পতাকাবাহী

comment / reply_from

related_post

newsletter

newsletter_description