dark_mode
Monday, 05 December 2022
Logo

মিলার ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের মামলা প্রত্যাহার (ভিডিও)

মিলার ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের মামলা প্রত্যাহার (ভিডিও)

নানা নাটকীয়তার পর বছর চারেক আগে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি দেশর জনপ্রিয় পপ গায়িকা মিলাকে ডিভোর্স দেন পাইলট পারভেজ সানজারী। পরবর্তী সময়ে মিলা দেনমোহর ও খোরপোষের টাকা চাইলে পারভেজ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরের বছর ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট দেনমোহর এবং খোরপোষ বাবদ ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ঢাকার একটি পারিবারিক আদালতে মামলা ঠুকে দেন মিলা।

অবশেষে পারভেজ সানজারীর কাছে দেনমোহর ও খোরপোষের টাকা চেয়ে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নিলেন গায়িকা মিলা। সম্প্রতি মিলা পারিবারিক আদালতে মামলাটি প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন ঢাকার দ্বিতীয় সিনিয়র সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান।

এর আগে মিলার মামলা প্রত্যাহারের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলায় বাদী, বিবাদীর আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসা হয়েছে মিলা ও পারভেজের মধ্যে। এই মুহূর্তে বিবাদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় বাদিনী আর কোনো প্রতিকার চান না। এ কারণে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন মঞ্জুর করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, পারভেজ সানজারীর সঙ্গে মিলার বিয়ে হয় ২০১৭ সালের ১২ মে। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তাদের ডিভোর্স চূড়ান্ত হয়। বিচে।চদের কারণ জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিলা দাবি করেন, নারী আসক্ত পারভেজ সানজারির সঙ্গে অনেক নারীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। অভিনেত্রী নওশীন নাহরিনের সঙ্গেও তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ফোনে নওশীনের সঙ্গে যোগাযোগও করেন। সংবাদ সম্মেলনে সেই ফোন রেকর্ড সবাইকে শোনান মিলা। সংবাদ সম্মেলনে মিলা বলেন, নওশীন এবং পারভেজের কথোপকথনের কিছু রেকর্ড আমার হাতে আসে। এমন কিছু (আপত্তিকর) ছবিও দেখি যার বর্ণনা মুখে বলা সম্ভব না।

২৫ লাখ টাকা দেনমোহরে মিলা-পারভেজের বিয়ের কাবিন করা হয়েছিল। এছাড়া বিয়ের উপহার হিসেবে পারভেজ সানজারীকে স্বর্ণালংকারসহ ৩০ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেন মিলার বাবা-মা। বিয়ের পরপরই পারভেজের আসল চেহারা বেরিয়ে পড়ে। প্রায়ই যৌতুক দাবি করতে থাকেন তিনি। মিলাকে মানসিক ও শারীরিকভাবেও নির্যাতন করতেন তিনি। এ কারণে উত্তরা পশ্চিম থানায় পারভেজের বিরুদ্ধে মামলাও করেন মিলা।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালের ১৬ জুন মিলার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন পারভেজ। পরে যৌতুক হিসেবে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মিলা টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে মিলার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর মিলা দায়েরকৃত মামলায় পারভেজ সানজারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ৫ জুন মিলার বিরুদ্ধে অ্যাসিড হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তার সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বাবা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৫ জুন সন্ধ্যার পর এসিড হামলা চালানো হয় পারভেজ সানজারির ওপর। সেদিন রাত ৮টার দিকে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টর এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবশ্য অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি পান মিলা। মিলার মুক্তি মিললেও কারাগারে পাঠানো হয় এই মামলার আসামী কিম জন পিটার হালদারকে। জন-মিলার ফোনালাপের একটি অডিও রেকর্ড পরবর্তী সময়ে ভাইরাল হয়।

বিয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মিলার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন পারভেজ সানজারি। মামলাটি আমলে নিয়ে পল্লবী থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদন আমলে নিয়ে মিলা ও তার বাবাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। এভাবে মামলা আর পাল্টা মামলা চলতে থাকে মিলা ও পারভেজের মধ্যে। এবার তাদের মামলাযুদ্ধ বন্ধ হবে- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

comment / reply_from

newsletter

newsletter_description