dark_mode
Sunday, 05 February 2023
Logo

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমি পার্বত্য জেলার জনগণ এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর কোনো ৩য় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বিশ্বের ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধের পথ উন্মোচিত হয়। অনগ্রসর এবং অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় শান্তি এবং উন্নয়নের ধারা। ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার অর্জন এই চুক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্মারক। 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম আধুনিকতার ছোঁয়া বিবর্জিত পার্বত্য জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনেন ও পার্বত্যবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি হাতে নেন। আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে পাহাড়ী ছাত্র-ছাত্রীদের সমান সুযোগ দেয়ার ব্যবস্থা নেন।

এই লক্ষ্য পূরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের জুন মাসে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুনির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণের জন্য নির্দেশনা দেন। 

পঁচাত্তর পরবর্তী অগণতান্ত্রিক সরকারগুলো পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাঙালি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভেতর পরিকল্পিতভাবে বিভেদ তৈরি করে। হত্যা, অত্যাচার, অবিচার, জমি দখল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার এই অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।

বিএনপি-জামাত জোট সরকারও ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে ঐতিহাসিক এই শান্তি চুক্তির চরম বিরোধিতা করে পার্বত্য অঞ্চলকে আবার অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু তাদের ওই হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। 

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের জনগণের বিপুল সমর্থন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার শান্তি চুক্তির আলোকে পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

এই অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো এবং মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সব খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য অঞ্চলে ৪২টি সেতু উদ্বোধন করেছি আমরা। পার্বত্য অঞ্চলের সব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে অচিরেই নতুন সেতু নির্মাণ করে দেবো আমরা।

রাঙ্গামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ করা হয়েছে। ভূমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে গঠিত ভূমি কমিশনের নানা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পার্বত্য এলাকার যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না সেসব এলাকায় সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাড়াকেন্দ্রের মাধ্যমে এই অঞ্চলের নারী এবং শিশুদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এবং শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের জন্য টেকসই সামাজিক সেবা দেয়া হচ্ছে।

পার্বত্যবাসীদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণাসহ তাদের সঙ্গে সমতল ভূমির জনগণের সেতুবন্ধন স্থাপনের লক্ষ্যে ঢাকার বেইলী রোডে প্রায় দুই একর জমির ওপর একটি শৈল্পিক ও নান্দনিক কমপ্লেক্স ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র’ নির্মাণ করা হয়েছে।

পার্বত্য জেলাগুলোর নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের প্রসারে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে আজ পার্বত্য জেলাসমূহ পিছিয়ে পড়া কোনো জনপদ নয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এই অঞ্চলের জনগণ সমভাবে অংশীদার। 

আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সব জায়গায় শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। আমি আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারবো। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির জনকের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী, সমৃদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

comment / reply_from

newsletter

newsletter_description