dark_mode
Monday, 05 December 2022
Logo
নারীসহ ১২ জনকে প্রকাশ্যে বে-ত্রা-ঘা-ত করা হলো আফগানিস্তানে

নারীসহ ১২ জনকে প্রকাশ্যে বে-ত্রা-ঘা-ত করা হলো আফগানিস্তানে

অনলাইন ডেস্ক:  নারীসভূমিবেষ্টিত সুউচ্চ পর্বতময় এবং উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে সমভূমিবেষ্টিত দক্ষিণ এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানে হাজারও মানুষের সামনে তিনহ ১২ জনকে বে-ত্রা-ঘা-ত করা হয়েছে। আফগানিস্তানে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো তালেবান প্রকাশ্যে এমন সাজা কার্যকর করল।


বুধবার দেশটির একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে অসংখ্য মানুষের সামনে তাদের বেত্রাঘাত করা হয়। খবর বিবিসির।

তালেবানের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে তথ্য দিয়ে বলেন, দেশ নানা ব্যভিচার, সমকামী যৌনতা, ডাকাতিসহ নৈতিক কর্মকান্ডসমূলক অপরাধের দায়ে ১২ জনকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম দেশ আফগানিস্তানে ১৯৯৬-২০০১ সালে তালেবানের ১ম শাসনামলে কঠিন শাস্তি যেমন, বেত্রাঘাত-পাথর নিক্ষেপের মতো কঠোর শরিয়াহ আইনের সাজা কার্যকর ছিল। তালেবান আবার পুরনো সেই ধারায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বেত্রাঘাতের ঘটনাটি ঘটে পূর্ব আফগানিস্তানের লোগার অঞ্চলে, সেখানকার তালেবান মুখপাত্র ওমর মনসুর মুজাহিদ সংবাদ মাধ্যমে বলেন, সাজা কার্যকরের পর তিন নারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন পুরুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কতজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

আরেক তালেবান কর্মকর্তা বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ২১ থেকে ৩৯টি বেত্রাঘাত করা হয়েছে। একজনকে সর্বোচ্চ ৩৯টি বেত্রাঘাত করা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেল সপ্তাহে উত্তর আফগানিস্তানের তাকহার প্রদেশে এই বেত্রাঘাতের মাধ্যমে ১৯ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জন নারী ছিলেন।

আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। পরে তারা সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের পর তালেবান গত সপ্তাহে দেশটির তাকহার প্রদেশে প্রথমবারের মতো কঠোর শরিয়াহ্ আইন প্রয়োগ করে।

চলমান মাসেই দেশটির বিচারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তালেবানের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। বৈঠকে কিছু অপরাধের জন্য শরিয়াহ আইনে শাস্তি প্রদান করতে বিচারকদের নির্দেশ দেন তিনি।

আখুন্দজাদার নির্দেশনার পর তালেবানের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, দেশে ডাকাতি, অপহরণ, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু অপরাধের শাস্তি অবশ্যই ইসলামি শরিয়াহ আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী দিতে হবে।

নব্বইয়ের দশকে তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন অপরাধীদের প্রকাশ্যে অঙ্গচ্ছেদ, পাথর ছুড়ে মারার মতো শাস্তি দেওয়া হতো। তখন এ নিয়ে কঠোর নিন্দার মুখে পড়ে তালেবান। তারা বলেছিল যে, পুনরায় ক্ষমতায় (তালেবান) এলে পূর্বের মত শাস্তি প্রদান করবেন না এমনটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অতীতের মতো তারা এবার দেশ শাসন করবে না।

comment / reply_from

newsletter

newsletter_description