dark_mode
Sunday, 04 December 2022
Logo

দশবার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর আগমুহূর্তগুলো যেভাবে কাটে ঐন্দ্রিলার

দশবার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর আগমুহূর্তগুলো যেভাবে কাটে ঐন্দ্রিলার

সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই সক্রিয় ছিলেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। জীবনে ঘটে যাওয়া সুন্দর নানা মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করে ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেন হরহামেশাই। সান বাংলা টিভির জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক জিয়ন কাঠির অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলার নতুন আর কোনো ছবি কিংবা ভিডিও আর দেখা যাবে না।

 

ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ১ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। টানা ২০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন তিনি। একবার কিংবা দুবার নয়, দশ দশ বার হার্ট অ্যাটাকের ধকল আর নিতে পারেনি মাত্র ২৪ বছর বয়সী ঐন্দ্রিলার শরীর। শেষ পর্যন্ত সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ২০ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।

 

সাত বছর আগে ২০১৫ সালে প্রথম প্রাণঘাতী ক্যান্সার বাসা বাঁধে ঐন্দ্রিলার শরীরে। প্রথম দফায় ক্যান্সারকে পরাস্ত করে সেরেও ওঠেন তিনি। কিন্তু গত বছর দ্বিতীয় দফায় তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরের বারও কেমোথেরাপি নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু শেষ লড়াইটা আর জিততে পারলেন না তিনি। ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে হার মানতে হয়েছে তাকে। ব্রেইন স্ট্রোক আর উপর্যুপুরি হার্ট অ্যটাকে নিভে গেছে তার উজ্জ্বল জীবন প্রদীপ।

 

রবিবার, ২০ নভেম্বর। মৃত্যুর সঙ্গে যুঝতে যুঝতে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরটা থেকে প্রাণবায়ু শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে গেলো তার। জিতেই গেলো মরণব্যাধি ক্যান্সার। সেদিন দুপুরে ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েন ঐন্দ্রিলার খুবই কাছের বন্ধু সব্যসাচী চৌধুরী। প্রিয় মানুষটিকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ করে বাড়ি নিতে না পারার আক্ষেপ কিছুতেই যে মিটছে না!

 

শনিবার থেকেই হাসপাতালে উদ্বেগের প্রহর কাটাচ্ছিলেন সব্যসাচী। চিকিৎসকদের কাছে তিনি জানতে পারেন, একের পর এক হার্ট অ্যাটাকের ধাক্কায় ভালো নেই ঐন্দ্রিলা। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল ঐন্দ্রিলার মৃত্যুর শেষ সময়টায়?

 

শনিবার সন্ধ্যায় সব্যসাচী খবর পান, ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। সেদিন দুপুর থেকে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন ঐন্দ্রিলা। তাকে ভেন্টিলেশন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। সিপিআর সাপোর্টও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না।

 

শনিবার বিকেল থেকে ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। হাসপাতালের বারান্দায় ছোটাছুটি করতে দেখা যায় ঐন্দ্রিলার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের। মাত্র ২৪ বছরের মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকেন তারা।

 

কিন্তু চিকিৎসক ও নার্সদের সব চেষ্টাকে বিফল করে দিয়ে ক্রমেই ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে হার্ট অ্যাটাক হয় তার। চিকিৎসকরা জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরপর ১০ বার হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েন ঐন্দ্রিলা। রাতভর উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। অবশেষে রবিবার দুপুর ঠিক ১২টা ৫৯ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

 

একটি মানুষ কিন্তু ঐন্দ্রিলা শেষ নিঃশ্বাসটি না ফেলা পর্যন্ত আশায় বুক বেঁধেই ছিলেন। একটানা ২০ দিন হাসপাতালে ঐন্দ্রিলার সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন সেই মানুষটি। তিনি সব্যসাচী চৌধুরী। তার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল- এ যাত্রায় বেঁচে ফিরুক ঐন্দ্রিলা। নিজের মনের সেই কথা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও জানান।

 

কিন্তু শনিবার ঐন্দ্রিলার জীবনের শেষ ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে বুঝতে পেরেই কিনা কে জানে, সেদিন সন্ধ্যায় সব্যসাচী চৌধুরী ফেসবুক থেকে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লেখা সব পোস্ট মুছে ফেলেন। পরদিন দুপুরে সব আশার আলো নিভে যায় সব্যসাচীর। কাছের বন্ধু ঐন্দ্রিলাকে হারিয়ে একাকী হয়ে পড়েন তিনি। শোকে-দুঃখে স্তব্ধ সব্যসাচী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন। একা একাই দুঃখের সাগরে ভাসছেন প্রিয়জন হারানো মানুষটি।

comment / reply_from

newsletter

newsletter_description