একের পর এক বিয়ের প্রস্তাবে অস্থির নিউমার্কেট সংঘর্ষে নিহত নাহিদের স্ত্রী (ভিডিও)

956

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির ডেলিভারিম্যান নাহিদের স্ত্রী ডালিয়া আক্তার অদ্ভুত এক বিড়ম্বনায় পড়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি।

এই ঘটনায় রীতিমতো তিতিবিরক্ত সদ্য স্বামী হারানো এই নারী। স্বামী হারিয়ে এমনিতেই বিপদের মধ্যে আছেন ডালিয়া। সেই বিপদের মধ্যেই আচমকা এমন ঘটনা যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে বিপদগ্রস্ত ডালিয়ার জীবনে। তার জীবন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মানুষের এমন বিবেকহীন কর্মকান্ডে তিনি ভীষণভাবে বিরক্ত ও বিব্রত।

প্রাণপ্রিয় স্বামী হারানোর দগদগে ক্ষত না শুকাতেই সাহায্যের নাম করে তাকে যারা বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন তাদের আদৌ বিবেক আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ডালিয়া। কাতর কণ্ঠে তার অনুরোধ, দয়া করে আমাকে কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেবেন না।

গণমাধ্যমে ডালিয়ার মোবাইল নম্বর ছড়িয়ে পড়ার কারণেই মূলত এমন অদ্ভুত বিড়ম্বনার মুখে পড়েছেন ডালিয়া। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে প্রথমে ইটের আঘাতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নাহিদ। সেই অবস্থায় তাকে রড দিয়ে বেদম প্রহার করেন ঢাকা কলেজের এক ছাত্র। এর একটু পরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংশভাবে নাহিদকে কোপায় ঢাকা কলেজের আরেক ছাত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। লাইফ সাপোর্ট থেকে আর ফিরে আসেননি নাহিদ। পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

সংঘর্ষে নাহিদের মর্মান্তিক মৃত্যু হওয়ার পর স্বামীহারা অসহায় ডালিয়ার সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য গণমাধ্যমে তার বিকাশ নম্বর প্রকাশ করা হয়। তার বিকাশ নম্বরে অর্থ সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। মূলত ঈদকে উপলক্ষ করে এই অর্থ সাহায্য চাওয়া হয়। কিন্তু ডালিয়ার ফোন নম্বর পেয়ে তাকে সাহায্য করার নামে একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উল্টো বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেন অনেকেই।

ডালিয়াকে সহযোগিতার নামে শুধু ফোনেই বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে না, অনেকে কামরাঙ্গীর চরে তার বাড়িতে গিয়েও বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ ডালিয়ার ভাষ্য, সবাই বিয়ের কথা বলছে। কিন্তু টাকা দিয়ে সহযোগিতা করছে না। এই ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার খুবই বিরক্ত। মিডিয়ায় (বিকাশ) নম্বর দিয়েছি আমাকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু সেই নম্বরে টাকা না পাঠিয়ে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। অনেকে আবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে সাত সকালে বাসায় এসে বসে থাকছে। সকাল ৭টায় এসে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

ডালিয়া আরও বলেন, কয়েকদিন আগেই আমার স্বামী মারা গেছেন। এর মধ্যেই আপনারা ফোনে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন, বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাসায় আসছেন। আপনাদের ঘরে কি মা-বোন নেই?তাদের জীবনে এমন ঘটনা ঘটলে আপনারা কি এমন করতে পারতেন? অন্তত ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর বা ৬ বছর তো সময় দিতেন! তারপর হয়তো বিয়ের কথা ভাবতেন। আপনারা কেন আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন? দয়া করে কেউ বিয়ের প্রস্তাব দেবেন না।

উল্লেখ্য, ভালোবেসে নাহিদকে আজীবনের সঙ্গী হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন ডালিয়া। মাত্র ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তাদের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে কিছু নিষ্ঠুর মানুষের নিষ্ঠুরতার কারণে। আপাতত নাহিদের স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকতে চান ডালিয়া।