নবীগঞ্জে ক্লিনিক মালিকের নগ্ন ভিডিও ফাঁস করলেন এক গৃহবধূ

291
নবীগঞ্জে রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক মালিকের নগ্ন ভিডিও ক্লিপ ফাঁস ক‌রে হইচই ফে‌লে দি‌য়ে‌ছেন এক গৃহবধূ। বলাই বাহুল‌্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘটনা‌টি।
নবীগঞ্জে রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক মালিকের নগ্ন ভিডিও ক্লিপ ফাঁস ক‌রে হইচই ফে‌লে দি‌য়ে‌ছেন এক গৃহবধূ। বলাই বাহুল‌্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘটনা‌টি।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : নবীগঞ্জে রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক মালিকের নগ্ন ভিডিও ক্লিপ ফাঁস ক‌রে হইচই ফে‌লে দি‌য়ে‌ছেন এক গৃহবধূ। বলাই বাহুল‌্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ঘটনা‌টি।

নবীগঞ্জ শহরে শেরপুর রোডে মাহমুদা ভিলায় রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক সেন্টারে থেরাপির অন্তরালে অসামাজিক অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছেন ওই গৃহবধূ।

জনৈক গৃহবধূ তার ফেসবুকে ফিজিওথেরাপি ক্লিনিকের ভিতরে অনৈতিক কাজের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিলে মূহূর্তের মধ্যে তা শহরের লোকজনের মাধ‌্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে নেট দুনিয়ায়।

জানা যায়, আব্দুল্লাহ নাঈমের রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক সেন্টারে ওই গৃহবধূ তার এক আত্মীয়‌কে নিয়ে ডাক্তারি পরামর্শে থেরাপি দেওয়ার জন্য যান। এসময় আব্দুল্লাহ নাঈম রোগীর খোঁজ-খবর নেওয়ার কথা ব‌লে ওই গৃহবধূর মোবাইল নাম্বার নেন। প‌রে আব্দুল্লাহ নাঈম ওই গৃহবধূকে ফোন দেন। শুধু তাই নয়, গৃহবধূর হোয়াটসঅ্যাপে আব্দুল্লাহ নাঈম নিজের নগ্ন ছবি ও ভিডিও পা‌ঠিয়ে রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিকে গি‌য়ে তার সঙ্গে একান্ত‌ে সময় কাটানোর কথা ব‌লেন।

এর প‌রি‌প্রেক্ষি‌তে ওই গৃহবধূ আব্দুল্লাহ নাঈমের নাম্বার ব্লক করে দেন। তারপরও তা‌কে বিভিন্ন অ‌চেনা নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে অসামাজিক কাজ করার জন্য কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন আব্দুল্লাহ নাঈম।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আব্দুল্লাহ নাঈম নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে হুমকি দেন বলেও অ‌ভি‌যোগ তু‌লে‌ছেন ওই গৃহবধূ। বিষয়টি সাবেক মেয়র তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীকে জানানোর পরেও কোনো বিচার পাননি অ‌ভি‌যোগ ক‌রে ওই গৃহবধূ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আদাল‌তে আইসিটি ও প‌র্নোগ্রাফি আইনে মামলা করবেন বলেও জানান ওই গৃহবধূ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক প্রথমে নবীগঞ্জ শহরের মধ্য বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসময় তিনজন মহিলা দিয়ে থেরাপি পরিচালনা করলে সচেতন নাগরিকরা এটি ভালো চোখে দেখেননি। এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে চতুর চালাক থেরাপী সেন্টারের মালিক ওই জায়গা থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে শেরপুর রোডে চলে যান। রুম ছাড়ার পর ওই দোকানের পিছনে অনৈতিক কাজের সন্ধান পাওয়া যায়। অসামাজিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি আলামত হিসেবেও পাওয়া যায়।

রেঞ্জার ফিজিওথেরাপী ক্লিনিকের পরিচালক আব্দুল্লাহ নাঈম নবীগঞ্জ শহরের চরগাঁও গ্রামের বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলামের মেয়ে জামাই হওয়ায় বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ নাঈমের বিরুদ্ধে রেঞ্জার ফিজিওথেরাপি ক্লিনিকের আরেকটি শাখায় থেরাপি কাজে নিয়োজিত জনৈক যুবতীর সাথে অনৈতিক কাজ করারও অভিযোগ উঠেছিল। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার বেদকান্দি গ্রামের মাওলানা আব্দুল ওয়াহাবের পুত্র।

আব্দুল্লাহ নাঈমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। সব ঘটনার সাথে তিনি জড়িত নন। এজন্য তিনি থানায়ও অভিযোগ করছেন।