রোজাদাররা ইনসুলিন, ইনহেলার নিতে পারবেন?

669
রোজা রেখে কি ইনসুলিন বা ইনহেলার নেওয়া যাবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধানই বা কি?
রোজা রেখে কি ইনসুলিন বা ইনহেলার নেওয়া যাবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধানই বা কি?

পবিত্র রমজান মাস চলছে। সিয়াম সাধনায় দিন পার করছেন পবিত্র ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা। অনেক ডায়াবেটিস রোগীকেই সারা বছর প্রতিদিন একাধিকবার ইনসুলিন নিতে হয়। এছাড়া শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির মতো রোগে যারা ভোগেন তাদের নিয়মিত ইনহেলার নিতে হয়। অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে ইনহেলার না নিলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো- রোজা রেখে কি ইনসুলিন বা ইনহেলার নেওয়া যাবে? এ বিষয়ে ইসলামের বিধানই বা কি?

রোজা রেখে ইনসুলিন, ইনহেলার নেওয়া যাবে কিনা- এমন জরুরি বিষয়গুলোর ইসলামী বিধান জেনে সংশয় দূর করা উচিৎ প্রতিটি মুসলিমের।

শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ইনহেলারের মাধ্যমে বিশেষ পদ্ধতিতে মুখের ভেতরে স্প্রে নিতে হয়। এতে করে যে স্থানে শ্বাসরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয় সেই স্থানটি প্রশস্ত হয়ে যায়। শ্বাস চলাচলের পথ বাধামুক্ত হয়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট থেকে মুক্তি মেলে। ইনহেলারের ভেতর যে ওষুধ থাকে স্প্রে করার সময় তা গ্যাসের মতো দেখায়। কিন্তু আসলে এটি তরল ওষুধ। তরল হওয়ায় মুখের ভেতরে স্প্রে করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে কাজা রোজা আদায় করে দিতে হবে। অবশ্য স্প্রে করার পর গিলে না ফেলে যদি থুতুর সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয় তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

অনেকের মতে, ইনহেলার জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় জীবন বাঁচানোর জন্য ইনহেলার নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কাজেই ইনহেলার নিলে রোজা ভঙ্গ হবে না। কিন্তু এমন যুক্তি ঠিক নয়। অতএব ইনহেলার অতিব জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করলেও রোজা ভঙ্গ হবে।

তথ্যসূত্র : ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ৫/৪৫৯; হেদায়া : ১/১২০

রগে, চামড়া বা মাংসপেশিতে এমনকি পেটে ইনজেকশন দিলেও রোজা ভঙ্গ হয় না। খাদ্যনালী দিয়ে পেটে খাবার বা পানিজাতীয় পদার্থ প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। অন্য কোনোভাবে খাবার কিংবা ওষুধ শরীরের ভেতর প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয় না। সুতরাং ইনসুলিন দিলে রোজা ভাঙবে না। কারণ ইনসুলিন সরাসরি খাদ্যনালী অতিক্রম করে না।