চমেক শিক্ষার্থীর পেট থেকে খুলির হাড় বের করে মাথায় প্রতিস্থাপন (ভিডিও)

707

পাঁচ মাস পর খুলির হাড় পেটের ভেতর থেকে বের করে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হলো ‘হাড় নেই, চাপ দিবেন না’খ্যাত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্র আকিব হাসানের মাথায়।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত চমেক শিক্ষার্থী আকিব হাসানের বেঁচে ফেরার কোনো আশা ছিল না। কলেজের সামনের সড়কেই ধাওয়া করে ৮-১০ জন মিলে বেধরক পেটায় তাকে। কাঁচের বোতল দিয়ে একের পর এক আঘাত করায় গুরুতর আহত হয় সে।

হামলায় থেঁতলে যায় আকিবের মাথা, ভেঙ্গে যায় পেছনের অংশের হাড়। পরে ভয়ংকর সেই হামলার সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর আকিবের মাথায় যে ব্যান্ডেজ করা হয় পরে তার ওপর লেখা হয়েছিল, হাড় নেই, চাপ দিবেন না। লেখাটির নিচেই আঁকা হয় মাথার খুলি ও হাড়ের ছবি সম্বলিত বিপজ্জনক চিহ্ন।

হাড় নেই, চাপ দিবেন না- মাথার ব্যান্ডেজে এমন লেখা দেখে শিউরে ওঠেন সারাদেশের মানুষ। ঘটনাটি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকিব হাসানের ওপর ছাত্র রাজনীতির হিংস্র সহিংসতার থাবা ভীষণভাবে নাড়া দেয় দেশবাসীর বিবেককে।

মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর। হামলায় আকিবের মাথার হাড়ই শুধু ভাঙেনি, তারও ব্রেনও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য কেউ হলে হয়তো বেঁচে ফিরতে পারতেন না।

সৌভাগ্য আকিবের। তীব্র প্রাণশক্তিতে ভর করে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে মৃত্যুকে পরাজিত করে ফিরে আসেন তিনি। টানা ১৯ দিনের চিকিৎসায় আকিব সুস্থ হয়ে ওঠেন। হাসপাতাল থেকে বাড়িতেও ফেরেন।

অবশ্য সেসময় আকিবের ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া খুলির হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়নি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে খুলে রেখে দেয়া হয়েছিল তারই পেটের একটি বিশেষ জায়গায়।

এরপর কেটে গেছে পাঁচ মাস। এই পাঁচ মাস আকিবের পেটের ভেতরেই ছিল সেই খুলির হাড়। অবশেষে গত সোমবার, ২৮ মার্চ খুলির হাড়টি পেট থেকে বের করে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে আকিবের মাথায়।

খুলির হাড় প্রতিস্থাপনের সময় ১৮টি বিশেষ ধরনের স্ক্রু ব্যবহার করা হয়। অত্যাধুনিক এই স্ক্রু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টাইটানিয়াম সেলস বাটন নামে পরিচিত।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই আকিবের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। লম্বা সময় ধরে ভাঙা হাড় পেটের ভেতর রেখে পুনরায় বের করে প্রতিস্থাপন করার এমন বিরল ঘটনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে এবারই প্রথম।

ছয় ঘন্টার বেশি সময় ধরে ১৫ জন চিকিৎসক জটিল এই অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। শুরুতে আকিবের পেটের চামড়া কেটে সেখানে রাখা খুলির হাড়টি বের করে আনা হয়। পরে তা জীবাণুমুক্ত করে মাথায় প্রতিস্থাপন করা হয়।

অস্ত্রোপচার সফল হয়। অচেতন আকিবের জ্ঞানও ফেরে। কথা বলেন ডাক্তারদের সঙ্গে। তারপরও সতর্কতাতার অংশ হিসেবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।