স্টক এক্সচেঞ্জের বিধান লংঘন করে ৩ বছর লভ্যাংশ না দিয়েও ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ডেল্টা লাইফ!

185
স্টক এক্সচেঞ্জের বিধান লংঘন করে ৩ বছর লভ্যাংশ না দিয়েও 'এ' ক্যাটাগরিতে ডেল্টা লাইফ!
স্টক এক্সচেঞ্জের বিধান লংঘন করে ৩ বছর লভ্যাংশ না দিয়েও 'এ' ক্যাটাগরিতে ডেল্টা লাইফ!

বর্তমান বিধান অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি পর পর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে বা এজিএম করতে ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির শেয়ার জেড বা জাঙ্ক ক্যাটাগরিভুক্ত হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বীমা কোম্পানি ডেলটা লাইফ। এরপর তিন বছর কেটে গেছে, কোনো এজিএমও হয়নি, শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দেয়নি কোম্পানি। তবু এ শেয়ারটি দেশের দুই শেয়ারবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার হিসেবে কেনাবেচা হচ্ছে।

ক্যাটাগরি উন্নতি বা অবনমন কার্যকরের দায়িত্ব স্টক এক্সচেঞ্জের। জানা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জ শেয়ারটির মান অবনতির জন্য উদ্যোগ নিলেও বিএসইসির সম্মতি না পাওয়ায় তা করা যাচ্ছে না। অদৃশ্য কারণে সিদ্ধান্ত জানাতে সময় নিচ্ছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ডিএসইর কর্মকর্তারা বলেন, কোনো কোম্পানির শেয়ারকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করতে বিএসইসির পূর্বানুমোদন নিতে হয়। ডেলটা লাইফের ক্যাটাগরি জেড-এ নামানোর অনুমোদন চেয়ে বিএসইসির কাছে চিঠি দেওয়া হলেও উত্তর মেলেনি। জেড ক্যাটাগরিতে অবনমন হলে শেয়ার লেনদেন নিস্পত্তি পাঁচ কার্যদিবসে লাগে, অন্য সব ক্যাটাগরিতে লাগে তিন দিন

বিএসইসির মুখপাত্র রেজাউল করিম বলেন, ডেলটা লাইফ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। তাছাড়া কোম্পানিটির বিষয়ে বিশেষ নিরীক্ষা এবং তদন্তও চলছে। এ কারণে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবছে না বিএসইসি।

তবে সংস্থাটির দায়িত্বশীল শীর্ষ এক কর্মকর্তা মনে করেন এটি ঠিক হচ্ছে না। যে কারণেই হোক, কোনো কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে বা এজিএম করতে ব্যর্থ হলে ক্যাটাগরি অবনমন করা উচিত। এদিকে ডেলটা লাইফে বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ নিযুক্ত প্রশাসক কুদ্দুস খান গত ১১ জানুয়ারি ডিএসইকে চিঠি দিয়ে ক্যাটাগরি অবনমন না করার অনুরোধ করেছেন।