চীনে করোনা ঠেকাতে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ঘুমানোর ওপর বিধিনিষেধ (ভিডিও)

318

করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে চীনে। এমন অবস্থায় কঠোর লকডাউন চলছে দেশটিতে। ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাতো আছেই। তার ওপর স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে ঘুমানোর ওপরও বিধি-নিষেধ জারি করেছে চীন সরকার। শুধু তাই নয়, স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন বা চুমু খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নজরদারি চালানো হচ্ছে ড্রোন দিয়ে।

সাংহাই শহরেই সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি চীনে গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এরপর থেকে ড্রোনে সব বাড়ি-ঘরের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে। যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরেও উঁকি মেরে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে শোবেন না। একে অপরকে জড়িয়ে ধরবেন না। একে অন্যকে চুমু দেবেন না।

কারও সামান্য লক্ষণ মনে হলেই তাকে জোর করে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে রাখা হচ্ছে। ছাড় দেয়া হচ্ছে না শিশুদেরও। লকডাউনে বন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

প্রশাসন এমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিবাদে অনেকেই তাদের বাড়ির জানালায় এবং বারান্দায় এসে গান গেয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

কঠোরভাবে লকডাউন প্রয়োগ করার ফলে সাংহাইয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিযেছে। এমন অবস্থায় প্রশাসনের ওপর অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্রমে সরব হচ্ছেন তারা।

মাত্রাতিরিক্ত কঠোর এই লকডাউনের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার। বেশিরভাগ মানুষই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি সাংহাইয়ের রাস্তায় পাহারা দিতে দেখা গেছে রোবটকে। তারাই সকলকে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ঘোষণা করে শোনাচ্ছে।

সাংহাইয়ের ভাইস মেয়র চেন টং বলছেন, আমাদের কাছে খাবারের কোনো অভাব নেই। যথেষ্ট পরিমাণে চাল, সবজি, মাংস মজুত করা রয়েছে। কিন্তু করোনা বিধিনিষেধের জন্য সেগুলো বিলিবণ্টন করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সুপার মার্কেটগুলো খোলার ব্যবস্থা করে খাদ্যপণ্য বণ্টনের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়।