টিপ ইব্রাহীম (আ.) এর যুগের পতিতা শনাক্তের চিহ্ন : বিএনপি নেতার পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

335
টিপ ইব্রাহীম (আ.) এর যুগের পতিতা শনাক্তের চিহ্ন : বিএনপি নেতার পোস্ট ঘিরে তোলপাড়
টিপ ইব্রাহীম (আ.) এর যুগের পতিতা শনাক্তের চিহ্ন : বিএনপি নেতার পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

রাজধানীর ফার্মগেটে টিপ পরায় এক পুলিশ কনস্টেবল নারী শিক্ষিকাকে হেনস্তা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সারাদেশে যখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে ঠিক তখনই আগুনে ঘি ঢাললেন বরিশালের এক বিএনপি নেতা।

কপালে টিপ পরা নারীদের পতিতা ও কুকুরের সঙ্গে তুলনা করে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ শাহ আলম মিয়া।

শুধু তাই নয়, কপালে টিপ পরা কুকুরের আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে নারী অবমাননার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা শাহ আলম। তিনি তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো:

কপালে টিপ পরা কুকুরের আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে নারী অবমাননার নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা শাহ আলম।

ইব্রাহীম (আ.) এর যুগে পতিতা শনাক্তের চিহ্ন হিসেবে কপালে টিপ পরার প্রচলন হয়। এই যুগের চরিত্রহীনারাও সেই চিহ্ন বহন করছে।

ইব্রাহীম (আঃ) কে আগুনে পুড়িয়ে মারার জন্য নমরুদ আঠারো মাইলের বিশাল এক অগ্নিকুণ্ড তৈরি করে। সেটি এত বড় ও ভয়াবহ উত্তপ্ত ছিল যে, কোনো মানুষের পক্ষে ইব্রাহীম (আ.) কে সেখানে নিক্ষেপ করা সম্ভব হলো না। অবশেষে একটি চরক বানানো হলো যাতে করে ইব্রাহীম (আ.) কে আগুনে নিক্ষেপ করা যায়।

কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশে রহমতের ফেরেশতারা চরকের একপাশে ভর করে থাকায় চরক ঘোরানো যাচ্ছিল না। তখন শয়তান নমরুদকে কিছু নগ্ন পতিতা নারী এনে চরকের সামনে বসিয়ে দেওয়ার কুবুদ্ধি প্রদান করলো।

কারণ এমন অবস্থায় ফেরেশতারা থাকতে পারবে না। তাই করা হলো এবং ফেরেশতারা চলে গেলো। এরপর ইব্রাহীম (আ.) কে আগুনে নিক্ষেপ করা সম্ভব হলো। পরবর্তীতে ওই মেয়েগুলোকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হলো। তাদের কপালে তীলক পরানো হলো যেটা এখন আমাদের কাছে টিপ নামে পরিচিত।

যেসব মুসলিম নারীরা টিপ পরে তারা এই ঘটনা জানে না। জেনেও যদি কেউ পরে তাহলে সেটা তাদের দুর্ভাগ্য। হিন্দু নারীরা টিপ পরে। এটা তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ। পতিতার পরিচয় বোঝানোর জন্য যে টিপ ব্যবহার করা হতো তা আজ আমাদের উপমহাদেশে মুসলমানদের মধ্যেও ফ্যাশনে রূপান্তরিত হয়েছে। ওহে মুসলিম মা-বোনেরা, এই সত্য কথা জানার পরও কি আপনাদের কপালে টিপ পরবেন? সুতরাং এই অবমাননাকর চিহ্নটি মুসলিম মা-বোনরা এড়িয়ে চলুন।

ফেসবুক পোস্টের শেষে সূত্রও উল্লেখ করেছেন শাহ আলম। তিনি লিখেছেন, সূত্র : তাফসীরে মারেফুল কোরআন, হজরত ইব্রাহীম (আ.) মূলগ্রন্থ। তাবারী, তারীখ, ১ খন্ড, ১২৩-১২৪; ছালাবী আদি গ্রন্থ, কাসাসুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠাঃ ৮১, আদি ইসলামী ইতিহাস, ইবনে কাসীর।