ইসলাম কি জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে?

188
ইসলামের ভাষায়, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তাহলে ইসলাম কি জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে?
ইসলামের ভাষায়, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তাহলে ইসলাম কি জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে?

বিশ্বের জনবহুল দেশগুলোতে জনসংখ্যা হুহু করে বাড়ার কারণে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

কিন্তু ইসলামের ভাষায়, রিজিকের মালিক আল্লাহ। তাহলে ইসলাম কি জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে? উত্তরটা হলো- ইসলাম যৌক্তিক কারণসাপেক্ষে জন্মনিয়ন্ত্রণ সমর্থন করে। তবে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সমর্থন করে না।

এছাড়া সন্তানের খাওয়া-পরার কথা ভেবে কোনো দম্পতি জন্মনিয়ন্ত্রণ করলেও তা বৈধ হবে না।

ইসলামে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাদে পিল বা গর্ভনিরোধক উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা জায়েজ।

অবশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কিংবা অন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণে দুজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুসলিম চিকিৎসক যদি কোনো দম্পতিকে স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করার পরামর্শ দেন সেক্ষেত্রেও জন্মনিয়ন্ত্রণ করা বৈধ বলে পরিগণিত হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাধারণত তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়।

প্রথমত, স্থায়ী পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হলে স্বামী বা স্ত্রী প্রজনন ক্ষমতা চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, স্থায়ী পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম। এ বিষয়ে আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (র.) বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় জানিয়েছেন, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করা সর্বসম্মতক্রমে হারাম। (উমদাতুল ক্বারীঃ ১৪/১৪ পৃঃ)

দ্বিতীয়ত, অস্থায়ী পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে স্বামী অথবা স্ত্রীর কেউই প্রজনন ক্ষমতা চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আযল করা (সহবাসের শেষ মুহুর্তে স্ত্রীর যোনির ভেতরে বীর্যপাত না ঘটানো), কনডম ব্যভহার করা, পিল খাওয়া ইঞ্জেকশন গ্রহণ, জরায়ুর মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া প্রভৃতি।

তৃতীয়ত, অ্যাবরশন বা গর্ভপাত ঘটানো। এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের অনেক পুরনো একটি পদ্ধতি। জন্মনিয়ন্ত্রণের অনেক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হলেও বর্তমান সময়েও বিশ্বের অনেক দেশেই এই পদ্ধতি প্রচলিত আছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতিও হারাম।

অবশ্য মাত্রাতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা অন্য কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে কোনো নারীর গর্ভে ভ্রুণ বেড়ে ওঠা যদি আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে সেক্ষেত্রে গর্ভপাত করা যাবে। তবে গর্ভধারণের মেয়াদ অবশ্যই চার মাসের কম হতে হবে।

গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাস অতিক্রান্ত হলে কোনো অবস্থাতেই গর্ভপাত ঘটানো যাবে না।

এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন, (রুহ আসার পর) গর্ভপাত ঘটানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম।

মহান আল্লাহ বলেছেন, যখন (কেয়ামতের দিন) জীবন্ত প্রোথিত (পুঁতে ফেলা) কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে…।