ময়মনসিংহে দেবরের লালসার শিকার দুই ভাবী

281
ছোট ভাবীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা করার কয়েকদিন পরই ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক বড় ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ওয়াসিম মিয়া।
ছোট ভাবীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা করার কয়েকদিন পরই ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক বড় ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ওয়াসিম মিয়া।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে লম্পট দেবরের লালসার শিকার হয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছেন দুই ভাবী। বড় ও ছোট ভাবীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দেবরের বিরুদ্ধে নান্দাইল মডেল থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

জঘন্য এমন ঘটনা ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁওয়ের সিংদই কাগদ্বারা গ্রামে। অভিযুক্ত দেবরের নাম ওয়াসিম মিয়া।

দুই গৃহবধূ একই পরিবারের। তারা শ্বশুর বাড়ি থাকেন। দুই গৃহবধূর একজনের স্বামী সৌদি প্রবাসী। আরেকজনের স্বামী ঢাকায় থাকেন।

মাস দুয়েক আগে বাড়ির বড় ও ছোট বউকে আলাদাভাবে নানা প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয় তাদেরই দেবর ওয়াসিম মিয়া। তারা কুপ্রস্তাবে রাজি হননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে ওয়াসিম মিয়া। বিষয়টি বাড়ির লোকজনসহ শ্বশুরকে জানালে ওয়াসিম মিয়া আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়। ওয়াসিমকে শাসন করা তো দূরের কথা, উল্টো দুই গৃহবধূকে হুমকি দেন তাদের শ্বশুর।

গত ৩০ মার্চ রাতে কৌশলে ছোট ভাবীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ও শ্লীলতাহানি করে লম্পট ওয়াসিম মিয়া। এসময় ভিকটিম চিৎকার করলে ওয়াসিম মিয়া দৌড়ে পালিয়ে যায়। লোকলজ্জার কারণে গৃহবধূর স্বামী বিষয়টি নিয়ে কোনো বিচার-সালিশ করেননি। লাই পেয়ে ওয়াসিম মিয়ার অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

ছোট ভাবীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টা করার কয়েকদিন পরই ৩ এপ্রিল রাতে কুমতলব নিয়ে দুই সন্তানের জননী বাড়ির বড় বউয়ের ঘরে প্রবেশ করে ওয়াসিম মিয়া। সেসময় ঘুমিয়ে ছিলেন তার বড় ভাবী। ঘুমন্ত অবস্থায়ই জোরপূর্বক বড় ভাবীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ওয়াসিম মিয়া। এসময় ভিকটিমের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে ওয়াসিম পালিয়ে যায়। সে পালিয়ে যাওয়ার সময় বড় ভাবীকে এই ঘটনা নিয়ে কোনো বিচার-সালিশ না করার হুমকিও দিয়ে যায়।

ওয়াসিম মিয়ার এমন বর্বর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ির বড় গৃহবধূ বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত করতে নান্দাইল মডেল থানার একজন এসআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে মামলাটি নথিভুক্ত হয়নি।

এদিকে মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় ওয়াসিম মিয়া ও তার বাবা মোফাজ্জল হোসেন বাদীকে ক্রমাগত নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াসিম মিয়ার অত্যাচারের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ঊর্ধ্বতন পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভিকটিম দুই গৃহবধূ।