চীনে ৬৩০ ফুট গভীর গর্তের ভেতর আস্ত জঙ্গল আবিষ্কার (ভিডিও)

293

প্রকৃতির এক অপার বিস্ময়ের নাম সিল্কহোল। প্রকৃতিতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশালাকার গর্ত সিল্কহোল নামে পরিচিত।

সাধারণত বৃষ্টির পানি মাটির নিচে একটি স্তরে গিয়ে সঞ্চিত হয়। বিভিন্ন কারণে যখন সেই পানি উত্তোলন করা হয় তখন মাটির নিচে ফাঁকা স্থান সৃষ্টি হয়। এতে করে মাটির উপরিভাগের ওজন বেড়ে যায় এবং ফাঁকা জায়গায় ভূমিধস হয়ে বিশালাকার গর্ত তৈরি হয়।

এছাড়া মাটির নিচে যেসব স্থানে বেশি পরিমাণে চুনাপাথর, লবণ, পাথর কিংবা বালুসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ থাকে সেসব স্থানেও সিঙ্কহোল বা বিশাল আয়তনের গর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে খনিজ পদার্থ দ্রবীভূত হয়ে গেলে মাটির নিচে ফাঁকা জায়গা বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সেই ফাঁকা জায়গার আয়তন। একটা পর্যায়ে মাটির উপরিভাগের ওজন সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এবং ভূমিধস ঘটে। এর ফলে তৈরি হয় বিশালাকার গর্ত বা সিল্কহোল।

সম্প্রতি চীনা বিজ্ঞানীরা ৬৩০ ফুট গভীর সিঙ্কহোল খুঁজে পেয়েছেন যার ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে আস্ত এক প্রাচীন জঙ্গল। এই জঙ্গলে আগে কখনোই মানুষের পা পড়েনি। সিঙ্কহোলটির গভীরতা ৬৩০ ফুট, দৈর্ঘ্য ১০০০ ফুট ফুট ও প্রস্থ ৪৯০ ফুট।

সদ্য আবিষ্কৃত বিশাল গর্তের ভেতর যে বন পাওয়া গেছে সেখানে বিশাল বিশাল উচ্চতার গাছও পাওয়া গেছে। এমনকি ১৩১ ফুট বা ১৩ তলা ভবনের উচ্চতার সমান প্রাচীন গাছ পাওয়া গেছে সেখানে। গবেষকরা অত্যাশ্চর্য এই প্রাচীন বন আবিষ্কার করার পর ধারণা করা হচ্ছে, এখানে এমন কিছু প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে যা আগে কখনোই পাওয়া যায়নি।

গুহা অভিযাত্রীরা বিশালাকার গর্তটিতে ঢোকার মতো তিনটি গুহাও খুঁজে পেয়েছেন। প্রবেশ পথ খুঁজে পান। গর্তের ভেতরের গাছগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে বেড়ে উঠেছে।

গুহা অভিযান দলের নেতৃত্ব প্রদানকারী চেন লিক্সিন জানান, সিঙ্কহোলের ভেতর মানুষের কাঁধ সমান উচ্চতার ছোট আকৃতির গাছ যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি ১৩১ ফুট উচ্চতার দনবাকৃতির গাছেরও সন্ধান মিলেছে। তিনি বলেন, এখানে যদি এমন কিছু প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায় যা আগে কখনোই আবিষ্কৃত হয়নি তাহলে মোটেও অবাক হবো না আমি।

চীনের গুয়াংজি অঞ্চলে একই রকম আরও বেশ কয়েকটি সিঙ্কহোল রয়েছে। নতুন আবিষ্কৃত সিঙ্কহোলসহ এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০টিতে।