সাংবাদিকরা অত্যাচারের অভিযোগ করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে

72

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার হলে সরকার তা সহ্য করবে না। সাংবাদিকরা অত্যাচারের অভিযোগ করলে সরকার যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।

ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলায় কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি করে অভিযোগ বাকশো স্থাপন করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এসব অভিযোগ বাকশো স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো যাচাই করবেন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদোনের সময় আইনমন্ত্রী বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, আমাদের সাব- রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর ঠিকানা ছিলো ব্রিটিশ কিংবা পাকিস্তান আমলের পুরনো, জরাজীর্ণ অথবা পরিত্যক্ত কোনো সরকারি অফিস। আর দলিল লেখক ভাইদের ঠিকানা ছিল মাথার ওপরে টিনেরশেড আর নিচে মাটি। খুব ভালো হলে আধাপাকা মেঝে। এমন অবস্থায়ই তারা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে বসে অনেক কষ্ট করে আমাদের দলিল লিখে দিতেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, রেজিস্ট্রি অফিসগুলো বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় জর্জরিত ছিল। দলিল নকল করার জন্য বালাম বহি ছিল প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য। ফলে মূল দলিল ফেরৎ পেতে আমাদের বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করতে হতো। নকল নবিশদের পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য বহুদিন ধরে ধর্না দিতে হতো। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। সময়মতো নিয়োগ না হওয়ায় বহু পদ শূন্য থাকত। অবহেলিত এমন অবস্থাকে পেছনে ফেলে গত কয়েক বছরে নিবন্ধন অধিদপ্তর অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হতাশা অনেকটাই দূর হয়েছে। ঢাকার কালামপুরে নবনির্মিত সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয় ভবন তার অন্যতম উদাহরণ।