২২ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে ফের বিয়ে করায় টুটুলকে তানিয়ার শুভেচ্ছা

528
২২ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে ফের বিয়ে করায় টুটুলকে তানিয়ার শুভেচ্ছা
২২ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে ফের বিয়ে করায় টুটুলকে তানিয়ার শুভেচ্ছা

১৯৯৯ সাল। বিয়ে করেন গানের জগতের বাসিন্দা এসআই টুটুল ও অভিনয় জগতের বাসিন্দা তানিয়া আহমেদ। বছরের পর বছর এক ছাদের নীচে সুখে সংসার করতে থাকেন। তাদের ঘর আলো করে আসে দুই ছেলে সন্তান। কিন্তু ধীরে ধীরে তানিয়া-টুটুলের সুখের সংসারে অশান্তির ঢেউ ওঠে। ২০১৭ সালে তা চরম আকার ধারণ করে। দুজন আলাদা থাকতে শুরু করেন।

২০২১ সালে সুদীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন এই তারকা দম্পতি। টুটুলের প্রথম বিয়ে হলেও তানিয়ার দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন টুটুল। মানে টুটুলের আগেও আরেকজনকে বিয়ে করেছিলেন তানিয়া। তার প্রথম সংসারে একটি ছেলে সন্তানও আছে।

তানিয়া-টুটুলের বিচ্ছেদের খবর খুব মানুষই জানতেন। সম্প্রতি টুটুল হঠাৎ করেই নতুন বিয়ের কথা জানালে মিডিয়াঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। সবার কাছে সুখী দম্পতি হিসেবে বিবেচিত তানিয়া-টুটুলের বিচ্ছেদের খবরে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন।

এর মধ্যেই সাবেক স্বামীর বিয়ের খবর জানার পর শুভেচ্ছা জানান তার সাবেক স্ত্রী দেশের তুমুল জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। টুটুলের উদ্দেশ্যে তানিয়া বলেন, আমাদের সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদ হয়েছে। ও (টুটুল) ওর জীবন নিয়ে ভালো থাকুক। তার জন্য আমার শুভকামনা থাকবে সবসময়।

সম্প্রতি বিয়ে করেছেন এস আই টুটুল। তার স্ত্রী শারমিন সিরাজ সোনিয়া নিউইয়র্ক প্রবাসী। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সেখানে চাকরির পাশাপাশি উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত আছেন তিনি।

টুটুলের মতো সোনিয়ারও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। সোনিয়ার প্রথম সংসারে একটি ছেলে সন্তানও আছে। ২০১১ সালে তার প্রথম সংসার ভাঙে। এরপর থেকে সিঙ্গেল মাদার হিসেবেই ছিলেন সোনিয়া। খুঁজছিলেন মনের মতো একজন মনের মানুষ।

অন্যদিকে বিগত দুই বছর ধরে গ্রিনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এসআই টুটুল। তবে গানের কাজে বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি বাংলাদেশেই থাকেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে নিউইয়র্কে আরটিভির ‘বাংলার গায়েন’ রিয়েলটি শো করতে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন টুটুল। সোনিয়ার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির বিচারক ছিলেন টুটুল। তিন মাস ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর পর সোনিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন টুটুল। সানন্দে রাজি হয়ে যান সোনিয়া।

সোনিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি একা ছিলেন। মনের মতো একজন জীবন সঙ্গী খুঁজছিলেন। তার পরিবারের সদস্যরাও বিয়ের জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। ঠিক এমন সময়েই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন টুটুল। সোনিয়ার কথায়, তিনি (টুটুল) আমাকে এত সুন্দরভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আমি না করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাইনি।

চলতি জুলাই মাসের ৪ তারিখে অল্প কয়েকজন কাছের মানুষের উপস্থিতিতে অনেকটা চুপিসারেই বিয়ের পর্ব সারেন টুটুল-সোনিয়া। সোনিয়ার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে টুটুলের ভাষ্য, আমি ও তানিয়া আলাদা ছিলাম পাঁচ বছর। গত বছর আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

টুটুল আরও বলেন, এরপর নিউইয়র্কে কনসার্টসহ নানা কাজে আমার যাতায়াত ছিল। সেখানে আরটিভির বাংলা গায়েন অনুষ্ঠানে সোনিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। আমরা দুজনই যেহেতু সিঙ্গেল এবং পরিণত, তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই।