সৎ মায়ের সহায়তায় কিশোরীর সর্বনাশ

244
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সৎ মায়ের সহযোগিতায় এক কিশোরীকে ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগে মামলা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সৎ মায়ের সহযোগিতায় এক কিশোরীকে ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগে মামলা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সৎ মায়ের সহযোগিতায় এক কিশোরীকে ধ-র্ষ-ণে-র অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীর দাদী বাদী হয়ে ওই কিশোরীর সৎ মাসহ ৪ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার পর কিশোরীর সৎ মা নিপা আক্তার (৩০), ধ-র্ষ-ক আকবর হোসেন (৩২) ও সহযোগী বক্কর মিয়াকে (৫৫) গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। অপর আসামী শহিদুল ইসলাম (২০) পলাতক রয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খলশী ইউনিয়নের খলশী গ্রামে বাবা ও সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করতো ধ-র্ষ-ণে-র শিকার ওই কিশোরী (১৩)। প্রায় এক যুগ আগে তার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই ওই বাড়িতে নানা ধরনের পুরুষ আসা-যাওয়া করতো। এ নিয়ে আসামী নিপা আক্তারকে নিষেধ করলেও সে কর্ণপাত করেনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ১ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী তার বাবার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের টিনের ছাপড়া ঘরে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে আসামী আকবর হোসেন, শহিদুল ইসলাম, বক্কর মিয়া ও অপর আসামী নিপা আক্তারের সাথে দেখা করতে আসে। ওই কিশোরী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে আসামী আকবর হোসেন ওই কিশোরীর ঘরে প্রবেশ করে।

কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরী ঘরে প্রবেশ করা মাত্র আসামী আকবর ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধ-র্ষ-ণ করে। ধ-র্ষ-ণে-র সময় অন্যান্য আসামীরা আকবরকে সহায়তা করে। এক পর্যায়ে আসামী আকবর হোসেন ওই কিশোরীর ঘর থেকে বের হয়ে অপর দুই আসামী শহিদুল ইসলাম ও বক্কর মিয়াকে নিয়ে চলে যায়। এরপর ওই কিশোরী ঘটনার বিষয়ে যাতে কাউকে বলতে না পারে সেজন্য তাকে বাড়ির ভেতরেই তিন দিন কড়া নজড়দারির মধ্যে রাখেন সৎ মা নিপা আক্তার।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোরঞ্জন সরকার বলেন, কিশোরীকে ধ-র্ষ-ণে-র ঘটনায় সৎ মাসহ তিন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।