স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে থাইল্যান্ড-বাংলাদেশ বৈঠক

67

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান আন্তর্জাতিকমানে উন্নীত করা এবং বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আজ সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক নেতৃত্ব দেন। থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। কিংডম অব থাইল্যান্ডের পক্ষে সেদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উপ প্রধানমন্ত্রী Anutin Charnvirakul-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশের বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগসমূহ উপস্থাপন করেন। মন্ত্রী এ সময় বর্তমান সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, সাফল্যের সাথে কোভিড মোকাবিলা, কোভিড মহামারিতে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ধরে রাখাসহ সরকারের অন্যান্য সাফল্যসমূহ তুলে ধরেন।

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উপ প্রধানমন্ত্রী Anutin Charnvirakul কোভিড মহামারিতে বাংলাদেশ যেভাবে মোকাবিলা করে বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে, অর্থনৈতিক সাফল্য ধরে রেখেছে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিকট কোভিড মোকাবিলার বিষয়টি বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে চলার পাশাপাশি নিজস্ব হেলথ প্রটোকল তৈরি করা, সফল টিকা কার্যক্রম ব্যাবস্থাপনা, টেলিমেডিসিন সেবা, স্বাস্থ্যবিধি মেইনটেইন করা, সময়োচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ স্বাস্থ্যখাতের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাইল্যান্ডের চিকিৎসা সেবার গুণগত মানের প্রশংসা করেন এবং সে দেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগসমূহ সম্পর্কে জানার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। থাইল্যান্ডে মা ও শিশু মৃত্যু হ্রাসে কি কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সে বিষয়েও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানতে চান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের আরো উন্নয়ন করতে থাইল্যান্ড সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক সহোযোগিতা প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উভয় দেশের মা ও শিশু স্বাস্থ্য, বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত নার্স, টেকনোলজিস্টসহ চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণ বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, যৌথ বিনিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কৌশলসহ স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে থাইল্যান্ড সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।