স্বামী ভাড়ার বিজ্ঞাপনে অনলাইনে তোলপাড় (ভিডিও)

244

বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, এমনকি বউ ভাড়ার কথাও শোনা যায়। কিন্তু স্বামী ভাড়ার কথা সচরাচর শোনা যায় না। এবার সেই কমতিও দূর হলো। অবিশ্বাস্য শোনালেও নিজের স্বামী ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে অনলাইনে রীতিমতো তোলপাড় তুলেছেন যুক্তরাজ্যের এক নারী।

‘হায়ার মাই হ্যান্ডি হাবি’ শিরোনামে অভিনব এই বিজ্ঞাপন দিয়েছেন যে নারী তার নাম লারা ইয়ং। তিন সন্তানের মা লারা ইয়ং যুক্তরাজ্যের বাকিংহ্যামশায়ারের অধিবাসী। মূলত ৪১ বছর বয়সী বেকার স্বামী জেমসের কর্মসংস্থানের জন্যই স্বামী ভাড়ার বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপনটি প্রচারের জন্য ‘রেন্ট মাই হ্যান্ডি হাসবেন্ড’ নামে রীতিমতো নিজস্ব ওয়েবসাইটও তৈরি করে ফেলেন লারা ইয়ং। নিজের ওয়েবসাইটে তো বটেই, জনপ্রিয় আরও বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার তুমুল জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকেও স্বামী ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেন লারা ইয়ং।

‘রেন্ট মাই হ্যান্ডি হাসবেন্ড’ শিরোনামের বিজ্ঞাপনটির বাংলা অর্থ অনেকটা এরকম- আমার অভিজ্ঞ স্বামীকে ভাড়া নিন। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পরপরই ভাইরাল হয়ে যায় অনলাইনে। নেটিজেনরা আজেবাজে মন্তব্য করে রীতিমতো ধুয়ে দেন লারা ইয়ংকে। সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। তবে বেশিরভাগ নেটিজেন শুধু শিরোনাম দেখেই লারার নিন্দায় সরব হন।

আদতে এই বিজ্ঞাপনটি স্বামীকে টাকার বিনিময়ে অন্য কোনো নারীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দেননি লারা ইয়ং। এ প্রসঙ্গে অভিমানী লারার ভাষ্য, যারা আমার বিজ্ঞাপনের ভুল অর্থ দাঁড় করিয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, যত দুর্দিনই আসুক না কেন আমি কোনোদিনও আমার স্বামীর সঙ্গে এমনটা করবো না যা আপনারা ভেবে বসে আছেন। প্রয়োজনে আমি নিজে চরম মূল্য দেব, কিন্তু আমার স্বামীর সঙ্গে এমন কিছু ঘটতে দেবো না।

লারা ইয়ং আরও বলেন, এটা ঠিক যে, টাকার জন্যই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেছি। কারণ আমার স্বামী জেমস এখন বেকার। বেকার হলৌ ভাববেন না সে অকর্মার ঢেকি। সত্যিকার অর্থেই ভীষণ রকমের কর্মতৎপর মানুষ সে। অন্দরসজ্জায় তার হাতের জাদু নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারবে না।

লারা ইয়ং জানান, ফেলে দেওয়া বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ফার্নিচার থেকে শুরু করে এমন সব জিনিস সে তৈরি করতে পারে যা দেখে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। ঘরের দেওয়ালে রঙ-তুলি দিয়ে অসম্ভব সুন্দর ছবি আঁকতেও সে দারুন পটু। মূলত স্বামীর সেই গুণগুলোকেই বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন লারা ইয়ং।