স্ত্রীর সংখ্যা বাড়াতে চান শতাধিক সন্তানের বাবা (ভিডিও)

262

সন্তান জন্মদানে ইতোমধ্যে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। এক স্ত্রীর গর্ভেই জন্ম নিয়েছে ১৫টি সন্তান। সবমিলিয়ে বর্তমানে তার ১০৭ সন্তান। ১৫ স্ত্রী আর ১০৭ সন্তান নিয়ে তার বিশাল পরিবার। তারপরও বিয়ের সাধ মেটেনি। আরও বিয়ে করতে চান তিনি। তার নাম ডেভিড সাকাও কালুহানা, বয়স ৬১ বছর। ডেভিড আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কেনিয়া রাষ্ট্রের বাসিন্দা। হ্যাঁ পাঠক, যা পড়েছেন তাতে বিন্দুমাত্র অসত্য তথ্য নেই। গল্প কিংবা কেচ্ছা-কাহিনিও নয়। বাস্তবেই এমন কান্ড ঘটিয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন আফ্রিকান এই প্রৌঢ়।

১৫ স্ত্রী আর ১০৭ সন্তান নিয়ে একান্নবর্তী পরিবারে বেশ সুখেই আছেন ডেভিড। শক্ত হাতে বিশাল সংসার সামলাচ্ছেন তিনি। স্ত্রীদের তিনি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন যে কোনো রকম গোলযোগ তো ঘটেই না, উল্টো তার সব স্ত্রীর মধ্যেই রয়েছে দারুণ সখ্য। কখনোই ঝগড়া-বিবাদে জড়ান না ডেভিডের স্ত্রীরা।

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সপরিবারে কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের একটি গ্রামে বাস করেন ডেভিড সাকাও। এতগুলো স্ত্রীকে যিনি বসে রাখতে পারেন তিনি নিজেকে রাজা ভাবতেই পারেন। ডেভিডের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তা। তিনি নিজেকে রাজা সলোমন মনে করেন।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ৯৭০ থেকে ৯৩১ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত টানা ৪০ বছর সলোমন ছিলেন সারা বিশ্বের সম্রাট। কথিত আছে, রাজা সলোমনের ৭০০ স্ত্রী ও ৩০০ উপপত্মী ছিল। রাজা সলোমনকে অনুসরণ করে ডেভিডও তার স্ত্রীর সংখ্যা বাড়াতে চান। সামনে আরও বিয়ে করার ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন তিনি নিজেই।

ডেভিডের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাজা সলোমন মনে করেন নিজেকে। তার (ডেভিড) মতো বুদ্ধিমত্তার মানুষকে একজন নারীর পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ডেভিডের দাবি, তার বুদ্ধিমত্তার স্তর এতটাই উঁচুতে যে কোনো নারীর পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। মূলত এ কারণেই তিনি একের পর এক বিয়ে করে চলেছেন।

ডেভিড জানান, একজন নারী তার জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে ১৫ স্ত্রী থাকলেও সামনে যদি আরও ৫ স্ত্রী তার জীবনে যুক্ত হয় তবুও তার কোনো রকম সমস্যা হবে না। কারণ তিনি জানেন কীভাবে স্ত্রীদের সন্তুষ্ট রাখতে হয়। তার কথায়, আমার যা আছে তাতেই আমার স্ত্রী এবং সন্তানরা সন্তুষ্ট।

ডেভিডের এক স্ত্রীর নাম রোজ। তিনি একটি কিংবা দুটি নয়, ১৫টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ডেভিডের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করোর পর। ডেভিডের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে রোজ জানান, তারা একে অপরকে প্রচন্ড ভালোবাসেন। অনেক সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করছেন তারা। অবশ্য রোজ স্বীকার করেছেন যে, বিয়ের পরপর সতীনদের হিংসা করলেও ধীরে ধীরে বিষয়টিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি।

এছাড়া দুই যুগ আগে ১৯৯৮ সালে জেসিকা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন ডেভিড। জেসিকা জানান, নতুন কোনো মেয়েকে তিনি (ডেভিড) স্ত্রী হিসেবে নিয়ে এলেও তার ভেতর কোনো রকম হিংসা কাজ করে না। ডেভিডের প্রতি অগ্রাধ শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস জেসিকার। তার কথায়, তিনি (ডেভিড) অনেক বেশি দায়িত্ববান একজন পুরুষ। ভেবেচিন্তেই সব কাজ করেন তিনি।