স্ত্রীর মর্যাদা পেতে নাজিরপুরে লাপাত্তা স্বামীর ঘরে কিশোরীর অনশন

131
মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে রবিউলের পরিবার স্থানীয় হুজুরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে।
মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে রবিউলের পরিবার স্থানীয় হুজুরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে।

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলায় স্ত্রীর মর্যাদা পেতে স্বামীর বাড়িতে চারদিন ধরে অনশন করছেন নুসরাত জাহান তন্বী নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী।

চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটেছে নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাতকাছিমা গ্রামে। মো. রবিউল ইসলাম খানকে (২৬) স্বামী দাবি করে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন নুসরাত জাহান। অবশ্য রবিউল ইসলাম দাবি করেছেন, নুসরাতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। তারা দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা।

এদিকে রবিউল ইসলামসহ তার পরিবারের লোকজন বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। চারদিন ধরে তাদের কোনো খোঁজ নেই।

নুসরাত জাহান সাতকাছিমা গ্রামের মো. ফায়জুল খানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন। আর অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম খান একই গ্রামের মো. ছালেক খানের ছেলে।

অনশনরত কিশোরীর বাবা মো. ফায়জুল খান জানান, নুসরাত জাহান তার একমাত্র মেয়ে। রবিউল ও তার পরিবার বিভিন্নভাবে চাপ দিলে গত বছরের ৬ আগস্ট পারিবারিকভাবে নুসরাত ও রবিউলের বিয়ে হয়।

কিন্তু মেয়ের বিয়ের বয়স না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে রবিউলের পরিবার স্থানীয় হুজুরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করে। বিয়ের পর থেকে জামাতা রবিউল যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে মারধরসহ নানাভাবে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে।

রবিউলের চাহিদা অনুযায়ী এক লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। কিন্তু এবারের ঈদের কয়েকদিন আগে ব্যবসার কথা বলে আবার টাকা আনতে বললে নুসরাত টাকা আনতে রাজি হয়নি। এ কারণে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে ঘরে তালা দিয়ে রবিউলের পরিবারের সবাই অন্যত্র চলে যায়।

বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল সাদীদ বলেন, ওই কিশোরী ও তার মা আমার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খান জানান, ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর মা আমার কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। আমি তাকে ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি।

নুসরাত জাহানকে শনিবার, ৭ মে সকালেও অনশন করতে দেখা গেছে। রবিউলের তালা দেওয়া ঘরের দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন তিনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে নুসরাত জাহানের ভাষ্য, আমি স্ত্রীর মর্যাদা চাই। চারদিন আগে আমার স্বামী রবিউল ও তার পরিবারের সবাই ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এদিকে অভিযুক্ত রবিউল দাবি করেছেন, তার বাড়িতে অনশনরত কিশোরীর সঙ্গে তার নাকি বিয়ে হয়নি। তাকে ফাঁসানোর জন্য তার বিরুদ্ধে বিয়ের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।