সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে তিন সহোদর শ্রমিকের মৃত্যু

111
ফেনীতে সেপটিক ট্যাংক বিষ্ফোরণে তিন সহোদর শ্রমিকের মৃত্যু
ফেনীতে সেপটিক ট্যাংক বিষ্ফোরণে তিন সহোদর শ্রমিকের মৃত্যু

শেখ আশিকুন্নবী সজীব, ফেনী প্রতিনিধি : ফেনী শহরের নাজির রোড সংলগ্ন আনোয়ার উল্যাহ সড়কে মঙ্গলবার একটি সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে তিন সহোদর শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছৈয়দ আলম মুন্সির তিন ছেলে আবদুর রহমান মুন্সি, নুরুল ইসলাম মুন্সি ও মনিরুজ্জামান মুন্সি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নিহত তিন জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ফেনী পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের নাজির রোড সংলগ্ন আনোয়ার উল্যাহ সড়কের জনৈক রুহুল আমিন মিয়ার  একটি চার তলা ভবনের নীচে অবস্থিত শোচাগারের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন ভবনটি নির্মানাধীন অবস্থায় পড়ে ছিল। ওই ভবনের নীচ তলায় সেপটিক ট্যাংকের ওপর কয়েকজন শ্রমিক বসবাস করতেন। 

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনজন শ্রমিক সেপটিক ট্যাংকটি পরিষ্কার করতে ঢাকনা খোলামাত্রই বিকট শব্দে সেটির বিস্ফোরণ হয়। বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পায়। খবর পেয়ে ফেনী সদর মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ছুটে যায়। তারা ওই তিন শ্রমিককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে  ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, নিহতরা তিনজনই  বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার  বাসিন্দা। তারা দীর্ঘদিন শহরের নাজির রোড সংলগ্ন আনোয়ার উল্যাহ সড়কের ওই নির্মানাধীন বাড়ীর নীচ তলায় বসবাস করতেন।

ফেনী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মৃৎসুদ্দি জানান, ঢাকনা বন্ধ থাকায় সেপটিক ট্যাংক আর দীর্ঘসময় সেটা বন্ধ থাকায় সেখানে একধরনের বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত গ্যাস আর অক্সিজেন সংকটের কারণে বিষ্ফোরনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ফেনী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন জানায়, তিন জনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।  এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।