বাঘের সঙ্গে যুদ্ধে জিতে বেঁচে ফিরলেন এক জেলে

417
বাঘের সাতটি কামড়, থাবা ও আঁচড় খেয়েও সৌভাগ্যক্রমে বাঘকে পরাস্ত করতে পেরে এ‌ যাত্রায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আবু সালেহ আকন নামের ওই জেলে।
বাঘের সাতটি কামড়, থাবা ও আঁচড় খেয়েও সৌভাগ্যক্রমে বাঘকে পরাস্ত করতে পেরে এ‌ যাত্রায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আবু সালেহ আকন নামের ওই জেলে।

বাগেরহাটে সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় বাঘের সঙ্গে যুদ্ধে জিতে বেঁচে ফিরেছেন সাহসী এক জেলে। বাঘের সাতটি কামড়, থাবা ও আঁচড় খেয়েও সৌভাগ্যক্রমে বাঘকে পরাস্ত করতে পেরে এ‌ যাত্রায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন আবু সালেহ আকন নামের ওই জেলে।

বাঘের হামলায় গুরুতর আহত আকন মোংলার সুন্দরবন ইউপির দক্ষিণ বাজিকরখন্ড গ্রামের বা‌সিন্দা। তি‌নি মৃত আমীর আলি আকনের ছেলে। তার বাবাও পেশায় জেলে ছিলেন।

বাঘের একা‌ধিক কামড়, থাবা ও আঁচড় খেয়েও প্রাণপণ লড়াই করে বেঁচে ফেরা আকন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তি‌নি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এ‌দিকে বাঘের আক্রমণে শরীরে দগদগে ক্ষত ‌নিয়ে আহত জেলে আকনকে দেখতে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। ভিড়ের চাপে রী‌তিমতো বেসামাল অবস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

রোববার, ১৭ এ‌প্রিল সকাল ৭টার দিকে আকন ও মো. হানিফ সুন্দরবনের জিউধরা এলাকার শুয়ার মারা খালে চরপাটা জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এসময় হঠাৎ একটি বাঘ হামলা চালায় আকনের ওপর। পেছন থেকে বাঘটি তার ওপর ঝাঁ‌পিয়ে পড়ে। তার ডান ও বাম হাতে কামড় বসানোর পাশাপা‌শি ঘাড়ের বাম দিকে ও পিঠে থাবা দিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এ অবস্থায় প্রাণে বাঁচতে বাঘের সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধ করতে থাকেন হামলার শিকার আকন। ধস্তাধস্তি শুরু হয় বাঘ ও মানুষের মাঝে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে আকন খালের পা‌নিতে ঝাঁপ দেন। এরপর আর্তস্বরে চিৎকার-চেঁচামে‌চি শুরু করেন। তখন আক্রমণকারী বাঘটি গহীন বনের ভেতর ঢুকে যায়।

অবধা‌রিত মৃত্যুর হাত থেকে ঘুরে আসার ভয়ংকর সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আকন বলেন, সকালে জঙ্গলের ভেতরে শুয়ার মারা খালে মাছ ধরার জন্য জাল পাতি। সেখানে হঠাৎ করে পেছন দিক থেকে বিকট শব্দে গর্জন করে এক‌টি বাঘ আমার ওপর আক্রমণ করে। এসময় আমাকে খালের কাদামাটিতে চেপে ধরার চেষ্টা করে। আমি উল্টো দিকে ফিরে বাঘের আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করি। তখন বাঘ আমার হাতে কামড় বসিয়ে দেয়।

আকন আরও বলেন, বাঘের সঙ্গে পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মতো ধস্তাধস্তি হয় আমার। এরপর সে আমাকে ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দিয়েই উঠে দাঁড়িয়ে আবার আমাকে আক্রমণ করার প্রস্তু‌তি নেয়। তখন আমি আমার কাছে থাকা দা ও লাঠি দিয়ে তাকে ভয় দেখাই ও চিৎকার করতে থা‌কি। এরপর জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে যায় বাঘ‌টি। বাঘটি অনেক লম্বা ছিল।

বাঘ চলে যাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে হানিফ ও আকনের চাচাতো ভাই আসাদুল সরদার তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল হোসেন স্বর্ণ তাকে চি‌কিৎসা দেন। তি‌নি জানান, আকনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাতটি কামড়, থাবা ও আঁচড়ের ক্ষত পাওয়া গেছে। তার চি‌কিৎসা চলছে। তি‌নি শঙ্কামুক্ত আছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুমা বেগম বলেন, সালেহ আকন একজন পেশাদার জেলে। তার বাবাও জেলে ছিলেন। বন বিভাগের কাছ থেকে পাস পারমিট নিয়ে সুন্দরবনে চরপাটা জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে বাঘের আক্রমণের শিকার হন তিনি। সালেহ আকন খুব সাহসী হওয়ায় বাঘের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে প্রাণে বেঁচে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন।