সীতাকুণ্ড ট্রাজেটিতে নিহত ভোলার সন্তান হাবিবুরের দাফন সম্পন্ন

96
সীতাকুণ্ড ট্রাজেটিতে নিহত ভোলার সন্তান হাবিবুরের দাফন সম্পন্ন
সীতাকুণ্ড ট্রাজেটিতে নিহত ভোলার সন্তান হাবিবুরের দাফন সম্পন্ন

ভোলা প্রতিনিধি : সীতাকুণ্ড সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকান্ডে নিহত ভোলার সন্তান হাবিবুর রহমান (২৫)’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ বালিয়া বটতলা গ্রামে তার জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। হাবিবুর রহমানকে নানা বাড়ির মসজিদের পাশে দাফন করা হয় । তার জানাজায় অংশ নেন দক্ষিণ বালিয়া বটতলা গ্রামের হাজারো মানুষ।

এর আগে রোববার (৫ জুন) দুপুর ৩ টায় হাবিবুরর মরদেহের ময়না তদন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ হয়। পরে তার পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতের মরদেহ বুঝে নেন তার মামা মো. আলমগীর হোসেন।

নিহত হাবিবুরের মাামা আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহ হাতে পাওয়ার পরপরই হাবিবের বন্ধুদের নিয়ে আমি লাশের গোসল শেষ করি। এরপর ভোলার উদ্দেশে রওনা করি। রাত সোয়া ২টার দিকে গ্রামের বাড়ি পৌঁছাই।

ছেলের লাশ দেখেই আহাজারি শুরু করেন হাবিবুরের মা হোসনে আরা বেগম ও আত্মীয় স্বজনেরা। মা হোসনে আরা বেগম চিৎকার করে বলতে থাকেন-সেদিন ফোনে কথা কইছি আমার হাবিবের সাথে। হাবিব জিজ্ঞাসা করছে মাগো কি খাইছো? নাস্তা করছো? কি করো? আমি কইছি বাবা আমি নাস্তা করছি আর আমার মাইয়ারে পড়াইতে

লইছি। তহন হাবিব কইলো ওরে মাইরো না মা ওরে আমি ডাক্তারি পড়ামু। ওর জন্য একটু কষ্ট করো তোমার ওরে নিয়া চিন্তা করা লাগবে না। বেতন পাইলে বাড়িতে আসবো, আমারে ৪ দিনের ছুটি দিছে। ২ দিন আইতে যাইতে যাইবো আর ২ দিন তোমাগো সাথে থাকমু।

উল্লেখ্য- শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতকুণ্ড সোনাইছড়ি বিএম কনটেইনার ডিপোয় আগুনের ঘটনা ঘটে। তখন ডিপোয় নাইট ডিউটি করছিলেন হাবিবুর রহমান। আগুনের ঘটনার পর ভয়াবহ একটি বিস্ফোরণ হয়। এ সময় আহত হন হাবিবুর রহমান। এরপর তার লাশ উদ্ধার হয়।