সিলেটে ১০ টাকার মোমবাতি ১০০ টাকা, ৫০০ টাকার নৌকা ভাড়া ৫০ হাজার টাকা! (ভিডিও)

192

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ অবস্থা সুনামগঞ্জে। ইতোমধ্যে সেখানকার বন্যা বিগত ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে। এমন ভয়ংকর তথ্য জানিয়েছেন খোদ ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান এমপি।

গত বুধবার ১৫ জুন থেকে বন্যা দেখা দেয় সিলেটে। এরপর হুহু করে বাড়তে থাকে পানি। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইতোমধ্যে বিগত ১০০ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে ফেলেছে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি। আজ থেকে ৩৪ বছর আগে ১৯৮৮ সালে সারাদেশের মতো সিলেটেও ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। কিন্তু সেসময় সিলেটের অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকা আম্বরশাহতে অবস্থিত হজরত শাহজালাল মাজার গেট এবং বাংলাদেশ বেতার সংলগ্ন ভিআইপি রোডে বন্যার পানি ওঠেনি। কিন্তু সিলেটে এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় এসব এলাকাতেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।

বন্যার পানির কারণে শনিবার, ১৮ জুন দুপুর থেকেই পুরো সিলেট শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। রাতে পুরোপুরি অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয় সিলেট।

বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতিই হয়ে উঠেছে সিলেটবাসীর আলোর প্রধান উৎস। কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদা আর মোম সংকটের কারণে অন্তত দশগুণ বেড়ে গেছে মোমবাতির দাম। ১০ টাকার একেকটি মোমবাতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণে মোমবাতির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মোম সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশি দামে একেকটি মোমবাতি বিক্রি করা হচ্ছে। যেসব দোকানে পর্যাপ্ত মোমের মজুদ রয়েছে সেসব দোকানের মালিকরাও মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অবিশ্বাস্য হারে মোমবাতির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রয়োজনের তাগিদে ১০ টাকার মোম ১০০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বন্যা কবলিত মানুষ।

অবিশ্বাস্য শোনালেও, নৌকার মাঝিরা আকাশছোঁয়া ভাড়া হাঁকছেন ভয়াবহ বন্যার সুযোগ নিয়ে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে নৌকার ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বন্যা শুরু হওয়ার পর ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া সালুটিকর ঘাটে জনপ্রতি আগে যে ভাড়া ২০ থেকে ৫০ টাকা ছিল তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০০ টাকা।

এই তথ্য জানিয়েছেন সিলেটেরই একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার নাম তালুকদার আনোয়ারুল পারভেজ। তিনি জানান, তার আত্মীয়-স্বজনরা সুনামগঞ্জে থাকেন। বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের কোনো হদিস মিলছে না। এ কারণে প্রচন্ডভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ করার জন্য ট্রলারে সুনামগঞ্জ যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা ভাড়া সাধলেও যেতে রাজি হননি ট্রলারচালক।

শুধু নৌকা ভাড়াই অবিশ্বাস্যভাবে বাড়েনি, সিএনজি ভাড়াও বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ১০০ টাকার সিএনজি ভাড়া ১০০০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন সিএনজি চালকরা।