সাভারে প্রকাশ্যে সংবাদকর্মীকে হত্যার চেষ্টা

150
সাভারে প্রকাশ্যে সংবাদকর্মীকে হত্যার চেষ্টা
সাভারে প্রকাশ্যে সংবাদকর্মীকে হত্যার চেষ্টা

সাভার উপজেলা পরিষদের ভেতরেই এক সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে বেধরক মারধর এবং ছু-রি দিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন দুর্বৃত্ত।

হামলার শিকার সংবাদকর্মী সোহেল রানা (২৬) দৈনিক তৃতীয় মাত্রার সাভার প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির উপপ্রচার সম্পাদক।

সাভারের আশুলিয়ায় এক ইউপি সদস্য পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার খবর ও সংবাদকর্মীদের প্রতি সাভার উপজেলা চেয়ারম্যানের হুমকির খবর প্রকাশ করায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোহেল রানা। এর আগে দেশের কোনো উপজেলা পরিষদের ভেতর এমন বর্বরোচিত ঘটনা ঘটার নজির নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

রোববার, ১৪ আগস্ট দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদের ভেতরে জঘন্য এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই সংবাদকর্মী দৌড়ে গিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। হামলায় গুরুতর আহত সোহেল রানাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাভার থানা পুলিশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গুরুতর আহত সোহেল রানাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা জানান, হামলার শিকার গুরুতর আহত সংবাদকর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এদিকে সংবাদকর্মী সোহেল রানা জানান, রোববার, ১৪ আগস্ট দুপুরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাভার উপজেলা পরিষদে যান তিনি। এসময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ২০ থেকে ২৫ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ছু-রি দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় সোহেল রানা তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দৌড়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

সোহেল রানা আরও জানান, সম্প্রতি সাভারের আশুলিয়ায় একটি বাড়িতে হামলা এবং একসঙ্গে মা ও মেয়ের শ্লী-ল-তা-হা-নি-র ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকায় পাথালিয়া ইউপি সদস্য শফিউল আলম সোহাগসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

পরে উক্ত ঘটনায় খবর প্রকাশ করায় ইউপি সদস্যের ভাই সামিউল আলম শামীম ও তার অনুসারীরা সোহেল রানাকে ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দেয়।

গ্রেপ্তারকৃত শফিউল আলম সোহাগ রোববার দুপুরে জামিনে বের হওয়ার পরপরই সোহেল রানার ওপর হামলা চালায়। সোহাগ ও তার ভাই শামীমের অনুসারীরাই হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সোহেল রানা।

সোহেল রানার ওপর হামলার ঘটনায় রোববার সাভার মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম জানান, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। এরপর আহত সংবাদকর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অতীতে দেশের কোনো উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি জানিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের ভেতরে সংবাদকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন এই সরকারি কর্মকর্তা।