সাঘাটায় বাঁধ ভেঙে ২১ গ্রাম প্লাবিত

86

মোঃ মশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি : ভারীবর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে গাইবান্ধার সাঘাটায় মুন্সিরহাট ক্রসবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২১ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

যমুনায় পানি বৃদ্ধির ফলে গত শুক্রবার ৩০ মিটার ক্রসবাঁধের ২ মিটার অংশ ধ্বসে যায়। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী তীর রক্ষা প্রকল্পের আওতায় জরুরীভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেললেও ভাঙন থামানো যাচ্ছে না। এতে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন নদীর তীরে বসবাস করা মানুষেরা। ভাঙনের শঙ্কায় এরই মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার তাদের বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মুন্সীরহাট ক্রসবাঁধ ভেঙে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বেড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কালুরপাড়া, কানাইপাড়া, কুমারপাড়া, জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কাঠুর, থৈকরেরপাড়া, পূর্ব আমদিরপাড়া, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, খামার পবনতাইড়, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি, গোবিন্দী, বাঁশহাটা, দক্ষিণ সাথালিয়া, হাসিলকান্দি, ভরতখালী ইউনিয়নের বরমতাইড় ও ভাঙ্গামোড়সহ ২১টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দীঘলকান্দি, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি ও মুন্সিরহাট এলাকায় এবার যমুনার প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনের ফলে এসব এলাকার দেড় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ধান, পাট, মরিচ, কাউন, তিলসহ নানা ধরনের ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দক্ষিণ দীঘলকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাই এবং ওই এলাকার শিক্ষক মনিরউদ্দিন জানান, আমাদের বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়ায় তাড়াহুড়া করে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউনিয়নের সবকয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের খাদ্য সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, এবার বর্ষা শুরু থেকে যমুনা নদী তীরবর্তী তার ইউনিয়নের হাটবাড়ি ও মুন্সীরহাট এলাকায় ভাঙনে গত একমাসে অন্ততঃ শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে চলে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোহাম্মদ মোস্তফা শাহীন বলেন, যমুনার পানি বাড়ায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। ভাঙনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্ত ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ১০টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে আবারো ১ হাজার পরিবারকে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।