সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

123
দৈনিক সময়ের আলোর সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উউঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
দৈনিক সময়ের আলোর সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উউঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : দৈনিক সময়ের আলোর সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মারধরের শিকার সাংবাদিক। পাশাপাশি তিনি তেঁতুলিয়া মডেল থানায়ও অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তুলেছে সাংবাদিক মহল।

দৈনিক সময়ের আলো এবং অনলাইন বার্তাবাজার ডটকমের সাংবাদিক আল আমিন শুক্রবার, ৮ জুলাই মধ্যরাতের দিকে বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক হোসেনের হাতে বেধরক মারধরের শিকার হন।

এই ঘটনায় বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আল আমিন। তিনি ৫ নং বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বুড়াবুড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে মোঃ তারেক হোসেন, একই গ্রামের গ্রাম পুলিশ কুরানুর ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম পুলিশ আসাদ আলীর ছেলে রওশন এবং ইউপি সদস্য মোঃ আতাউর রহমানকে অভিযুক্ত করেছেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আল আমিনের অভিযোগ, গত শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে চুরির অপবাদ দিয়ে তার বড় ভাই আলমগীর হোসেনকে চেয়ারম্যান তারেক হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ওই ইউনিয়নের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের মনিকো গুচ্ছগ্রামের একটি গোপন ঘরে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রায় ৮ ঘন্টা অবরুদ্ধ রাখার পর আল আমিনের ভাইকে রাত ১১টার দিকে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের কাছে খবর পেয়ে সাংবাদিক আল আমিন তার ভাইকে উদ্ধার করতে যান। তখন তার উপর চড়াও হন চেয়ারম্যান তারেক হোসেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে আল আমিনকে গ্রাম পুলিশ দেলোয়ার হোসেন, রওশন এবং ড্রাইভার রনজু বেধরক মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। চেয়ারম্যান নিজেও সাংবাদিকতার স্বাদ চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে মারধর করেন। পরে সাংবাদিক ও তার ভাইকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেন চেয়ারম্যান তারেক হোসেন।

আল আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাইকে চুরির অপবাদে আটকে রাখার খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে উপস্থিত হতেই আমার ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন চেয়ারম্যান। আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার জন্য অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশকে হুকুম দেন তিনি। আমার সাংবাদিকতাকে চিরতরে মিটিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তদের সহযোগিতায় আমার শার্টের কলার ধরে এলোপাতারি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এ সময় আমাকে মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন চেয়ারম্যান। আমি এর উপযুক্ত বিচার চেয়ে শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

চেয়ারম্যানের হাতে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব, জার্নালিস্ট ক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা এই ঘটনায় ঘৃণা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হোসেন বলেন, ওই সাংবাদিকের ভাইকে চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু তার ভাই সাংবাদিক আল আমিন আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে মামলা দেয়ার হুমকি প্রদর্শন করে। এতে গ্রাম পুলিশ দ্বারা মারধরের শিকার হতে পারেন। তবে তিনি খুবই উদ্ধত আচরণ করেছেন। এজন্য তাকে কয়েকটা চড়-থাপ্পড় দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, এ প্রসঙ্গে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।