সংগীতাঙ্গনে এক ও অদ্বিতীয় ছিলেন

102
সংগীতাঙ্গনে এক ও অদ্বিতীয় ছিলেন
সংগীতাঙ্গনে এক ও অদ্বিতীয় ছিলেন

কিছু মৃত্যু মনের ভেতর একটা ধাক্কা দিয়ে যায়। দাগ কেটে যায়। হঠাৎ করেই সবকিছু থামিয়ে দেয়। গাজী ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটা আমার কাছে ছিল তেমনই। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই এমন দুঃসংবাদ! দিনটা তো কোনো সুখবর দিয়েও হতে পারত! হয়নি।

আমাদের প্রিয় গাজী ভাইয়ের এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর দিয়েই দিনটা শুরু হয়েছিল। প্রথমে তো বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সত্যিই কি গাজী ভাই নেই! তাকে নিয়ে কতটুকুইবা বলার ক্ষমতা আছে আমার! বেশি কিছু বলার মতো অবস্থাতেও নেই। তবে এটা সত্যি, সংগীতাঙ্গনে গাজী ভাই ছিলেন এক ও অদ্বিতীয়।

খুব বেশি কষ্ট লাগছে আরও একটি বিষয় ভেবে। ৪ সেপ্টেম্বর আমার জন্মদিন। আর আমার জন্মদিনেই গাজী ভাই চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে! এটা আমৃত্যু কখনোই ভুলতে পারব না। আমার জন্মদিন এলেই গাজী ভাইয়ের কথা আলাদাভাবে মনে পড়ে যাবে!

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা অনেক গান আমি কণ্ঠে তুলেছি। ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে’, ‘আলো তুমি নিভে যাও’, ‘প্রেম যেন মোর গোধূলি বেলার পান্থ পাখির কাকলি’, ‘ওরে ও পরদেশী যাবার আগে দোহাই লাগে’সহ আরও কত গান! এই মুহূর্তে ঠিক মনে আসছে না। সিনেমার গানই নয়, তার লেখা দেশের গানগুলোর ভাবার্থই অন্যরকম। অগাধ দেশপ্রেম না থাকলে এভাবে লেখা কখনোই সম্ভব নয়।

তার লেখা গান কণ্ঠে তোলার সময় একটা তৃপ্তি অনুভব করতাম। গান তো জীবনে অনেক গেয়েছি। কিন্ত মর্মার্থ বুঝে কিংবা শ্রোতাদের আবেগ, ভালোবাসা-এসব ধরে রেখে ক’জনইবা লিখতে পেরেছেন। সংখ্যাটা খুব বেশি নয়। গাজী ভাই তাদের মধ্যে অন্যতম।

শুধু গানই কেন, সিনেমার দিকে তাকালেও তার রয়েছে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। ২০টিরও বেশি সিনেমা তিনি পরিচালনা করেছেন। কাহিনী লিখেছেন, চিত্রনাট্য লিখেছেন, সংলাপ লিখেছেন অনেক সিনেমার। প্রযোজনাও করেছেন। সব মিলিয়ে গাজী ভাই ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তার কাছ থেকে নেওয়ার অনেক কিছু ছিল। তিনিও দু’হাত উজাড় করে নিজের লব্ধ জ্ঞান বিলিয়েছেন সবার মাঝে।

কোনো কিছু জানতে চেয়ে তার কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে কাউকে, এমনটা বোধ হয় একজনও পাওয়া যাবে না। গাজী ভাই নেই, এটা ভাবতে চাই না। গাজী ভাই আছেন এবং থাকবেন আমাদের মাঝে। সবসময়, আজীবন।