শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি

203
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির বাড়ি

গোলাম রব্বানী-টিটু:(শেরপুর)প্রতিনিধি: ডিজিটাল দেশে এই মাটি ঘরের চাহিদা নেই বললেই চলে যদিও থাকে গরিবের বাড়িতে এখন দেখা মিলে খুবই কম । কিন্তু এক সময় এই শান্তির ঘর ছিল ধনী গরিব সবার নিকট প্রিয় । বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত,বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্যে এই ঘরে বসবাসকারীরা দূর্ঘটনার জন্যে আতংকে থাকেন । শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়া-ঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর।

যা এক সময় ছিল গ্রামের মানুষের কাছে মাটির ঘর গরিবের এসি বাড়ি নামে পরিচিত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ হারিয়ে যাচ্ছ মাটির বাড়ি। আগে প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো মাটির ঘর। ঝড় – বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলা থেকে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি বাড়ি বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছ। অতি প্রাচীনকাল থেকেই মাটির বাড়ির প্রচলন ও গ্রামের মানুষের কাছে এ বাড়ি ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। গ্রামের বিত্তবানরাও এক সময় অনেক অর্থ ব্যয় করে মাটির দ্বিতল মজবুতবাড়ি তৈরি করতেন যা এখনো কিছু কিছু গ্রামে চোখে পড়ে।

এটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত হয়ে ২-৩ ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। ১০/১৫ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার উপর খড় বা টিনের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির বাড়ি অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো সব ঘর বড় মাপের হয় না। গৃহিণীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আলপনা একে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে মাটির ঘর নষ্ট হয় বলে বর্তমান সময়ে দীর্ঘস্থায়ীত্বর কারণে গ্রামের মানুষরা ইট সিমেন্টের বাড়ি নির্মাণের দিকে আগ্রহী হচ্ছে। উপজেলার,বনগাঁও,মরিয়মনগর,নকশী,তাওয়াকুচা,গজনী সহ সকল গ্রামের অনেকেই জানান, মাটির তৈরি বাড়ি তারা পেয়েছন অনেক বাপজাদা আমল থেকেই। তাদের পূর্ব পুরুষেরাও এই মাটির তৈরি বাড়িতেই জীবন কাটিয়েছেন। তাই এখনো তারা এই বাড়িগুলো না ভেঙে স্মৃতি ধরে রেখেছেন ।

তবে মাটির তৈরি বাড়ি বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশ মানুষ মাটির বাড়ি ভেংঙে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে অনেক লোকের নিবাস কল্পে গ্রামের মানুষরা ইটের বাড়ি/ঘর তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।