লোকসানের শঙ্কা নিয়েই আমন আবাদ

88
লোকসানের শঙ্কা নিয়েই আমন আবাদ
লোকসানের শঙ্কা নিয়েই আমন আবাদ

মুসা মিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ আবহাওয়ার ছন্দপতন, বর্ষকালে   কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির না হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমন ধানের আবাদ।  বর্ষাকাল শেষপ্রন্তে চলে আসলেও আষাঢ়- শ্রাবণমাসে নেয় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। এমন প্রতিকুল আবহাওয়ার করনে এখনো বিনা আবাদে রয়েছে অনেক জমি। আষাঢ মাস  থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে আমনের আবাদ। কিন্তু আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অর্ধেক জমিতে হয়নি আমন ধানের চারা রোপণ। ভরা বর্ষাকালের প্রখর রোদে নষ্ট হয়েগেছে আমনের চারা।

আমন ধান চাষাবাদে উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, প্রতি বছর আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টির পানিতে আবাদি জমি প্রস্তত আমন ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করেন তারা। ফলে সেচ খরচ কম হওয়ায়  উৎপাদন খরচ কম হয়। কিন্তু এবছর বৃষ্টি না থাকায় সেচ দিয়ে চাষাবাদ করে কম ফলনে আমনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  উৎপাদন খরচ নিয়ে শুরুতেই শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাযায় এ বছর জেলায়  ৫৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা কৃষি বিভাগের । এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার হেক্টর জমি। গত বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোপা আমন চাষা হয়েছিল ৫২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সরজন গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জনান আমনের ফলন কম হলেও বৃষ্টির পানিতে চাষাবাদ হতো বলে খরচও কম ছিল। তখন লাভের মুখ দেখা যাইত। কিন্তু এবার বৃষ্টি নেই ডিজেল কিনে শ্যালো মেশিনে পানিতে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। তবে এবার তিজেল এর দামও বেশি। এতে উৎপাদন খরচ অনেকটাই বাড়ছে। বাড়তি উৎপাদন খরচে আমন চাষে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। সরকারি প্রণোদনা বা সরকারিভাবে সেচ সুবিধার দাবি জানান তিনি। একই উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান এবছর আমন ধান চাষাবাদের শুরু থেকেই বাড়তি খরচ। আকাশের বৃষ্টি নেয়। গোভির নলকূপ থেকে পানি দিয়ে জমি আবাদ করছি। কিন্তু বিদ্যুৎ লোডশেডিং এর কারণে সেচে বিঘ্ন ঘটছে। আবার গত কাল থেকে টিভিতে দেখেছি ইউরিয়া সারের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একদিকে সেচের বাড়তি খরচ আবার সারের দাম বাড়ল এতে কৃষকের ক্ষতি হবে। ক্ষতি হলেও কৃষক মানুষ চাষাবাদ না করে জমি ফেলে রাখলে পেটের ভাত আসবে না। তবে সরকার সহযোগীতা করলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য)  মোঃ রাজিবুর রহমান বলেন বৃষ্টি না হওয়ার কারণে কৃষকরা কিছুটা কষ্টের মধ্যে আমন ধান রোপণ করছিলেন । তবে কয়েক দিন থেকে  জেলার বিভিন্ন জায়গায়  বৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষকের কষ্ট লাঘব হবে। সরকার বিভিন্ন মহলের সাথে আলোচনা করে ইউরিয়া সারের দম বড়িয়েছে। এর কারণে তেমন প্রভাব পড়বে না। কৃষকদের উন্নত জাতের ধান চাষে পরামর্শ ও চাষাবাদ করতে সকল ধরনে টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।