রাণীশংকৈলে ৩৫১ গৃহহীন পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

90

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি : মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২য় ধাপে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ৩৫১ টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল( মঙ্গলবার) আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে গৃহ হস্তান্তর কার্যক্রম দেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে লক্ষে রাণীশংকৈলে ঘর হস্তান্তরের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। দেখা যায় দ্বিতীয়  পর্যায়ের এই ঘরগুলোর নকশা ও

পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। যার ফলে ঘরগুলো অধিক টেকসই ও দুর্যোগ সহনীয় হবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরইমধ্যে ঘর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ঈদের আগেই গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করা হলে এবারের ঈদ তাদের জন্য আনন্দে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে সেই লক্ষেই এই আয়োজন

হবিবর রহমান যুবক বয়সে চেষ্টা করেছিলেন মাথা গোঁজার জন্য সামান্য জমি কিনতে। কিন্তু প্রতিদিনের আয় সংসারের খরচেই ব্যয় হয়ে যায়। টাকা আর জমানো হয়নি। কেনা হয়নি জমিও। বসবাস করেছেন বিভিন্ন খাসজমিতে। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে এসে হবিবর পেলেন নিজের নামে জমিসহ ঘর।

হবিবর রহমান বসবাস করেন রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের করনাইট কুমুরগঞ্জ পুকুরপাড়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেও বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। হবিবর স্ত্রী নিয়ে ওই পুকুরের পাড়ে ছোট একটি ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন।

উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, পুকুরের পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দুই শতক জমিসহ আধা পাকা বাড়ি সরকারিভাবে দেওয়া হয়েছে। এ খবর শুনে উচ্ছ্বসিত হন হবিবরসহ উপস্থিত ভূমিহীনেরা।

ওই পুকুরপাড়ের বাসিন্দা বিধবা ফাতেমা বলেন, ‘তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলেটি নিয়ে পুকুরপাড়ে বসবাস করছিলাম। ভাবতাম, কখন যেন আবারও ঘরবাড়ি ভাঙতে হয়। এবারে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছি । আমার নামে দুই শতক জমির ওপর আধা পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে আমি খুব খুশি হয়েছি।  আমাদের বাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সরেজমিনে উপজেলার করনাইট কুমারগঞ্জ পুকুরপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, ভূমিহীনদের জন্য ৪৫ টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেল এই ঘরের বাস্তব চিত্র, লাল সবুজের রঙিন টিনশেডের প্রতিটি একক ঘরে ইটের দেওয়াল কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি দুটি করে শোবার ঘর, একটি রান্না ঘর, টয়লেট এবং

সামনে ছোট খোলা বারান্দাও রয়েছে।এক একটি ঘর যেন এক একটি অক্ষয় নিবাস একটি সংকল্প। মনে হলো একান্ত আপন মনেই ঘরগুলো নির্মান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘর পাওয়ার আনন্দে খুশিতে আলাপ আলোচনায় মেতে উঠেছেন পুকুরপাড়ের বাসিন্দারা। কেউ কেউ শেখ হাসিনার নাম ধরে মঙ্গল কামনা করে দোয়া করছেন। কেউ বলছেন, ‘শেখের বেটিকে আল্লাহ যেন সারা জীবন ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন।’

ঘর নির্মান ও হস্তান্তরের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে তৃতীয় পর্যায়ে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ৭৭৬টির মধ্যে ৩৫১ভাগ্যবান পাচ্ছে নতুন ঠিকানা।

তিনি আরো বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পটি  পৃথিবীর সর্ববৃহৎ কয়েকটি  প্রকল্পের মধ্যে একটি,  যাতে একসঙ্গে এত পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন করা হয়েছে। ভিটেমাটির পাশাপাশি হচ্ছে বসতঘর। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে চলে আসবে পিছিয়ে পড়া একটি বড় জনগোষ্ঠী ।গৃহহীন সদস্যরা পাবে মাথা গোজার ঠাঁই। ফলে ঐ পরিবার হয়ে উঠবেন আত্মপ্রত্যয়ী এবং খুঁজে পাবেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অবলম্বন। বাসগৃহ গুলো খুবই টেকসই আধুনিক সুযোগ সম্বলিত।