রাণীশংকৈলে অফিসে বসে উপজেলা প্রকৌশলীর ধূমপান

123

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : সরকারি অফিসে বসে ধূমপান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী কে.এম সাব্বিরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ধূমপানের চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা হয়।

রানীশংকৈল উপজেলার ৩নং হোসেনগাও ও ৪নং লেহেম্বা ইউনিয়নের মাঝে ব্রহ্মপুরে মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো নিয়ে একটি সংবাদের জন্য ওই প্রকৌশলীর কাছে বক্তব্য নিতে গেলে দেখা যায়,অফিসেন চেয়ারের মধ্যে বসেই ধুমপান করছেন তিনি। এরপর তার কাছে সেই সংবাদের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি বক্তব্য দিতে চান না। পরে মোবাইল ফোনে প্রকৌশলীকে ধুমপানের বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি বলে উঠেন আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার নামে বিচার দিতে পাড়েন।

এদিকে অফিসে বসে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। প্রকৌশলীর প্রকাশ্যে ধূমপানের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলের মধ্যে।

যানা যায়,চলতি বছরের ১৬ ফেব্রয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী কার্যালয়ে উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন কে.এম সাব্বিরুল ইসলাম। এর আগে তিনি গড়ের জেলা পরিষদে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০০৫ এর সংশোধনী ২০১৩ সালের আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা সরকারি অফিস, স্বায়ত্বশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবনসহ পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা দন্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধ করলে তিনশত টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে দন্ডের দ্বিগুন হারে দন্ডনীয় হবেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কে.এম সাব্বিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধূমপান করার বিষয়টি আপনি প্রধানমন্ত্রীকে নাশিল করেন। আমি ইতোমধ্যে যেসব স্যারের সাথে কাজ করে এসেছি তাদের সাথেও ধূমপান করেছি। তারা ডিসি পর্যায়ের লোক ছিল। আমি তো তাদের কাছ থেকে শিক্ষা পেয়েছি ধূমপান করার। আমি তো আর বাইরে গিয়ে সিগারেট খাচ্ছি না, অফিসে বসেই সিগারেট খাচ্ছি তাই না।

রাণীশংকৈল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ বলেন, অফিসে বসে ধূমপান করার সুযোগ নেই, অবশ্যই এটি দন্ডনীয় অপরাধ। আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি আমি জানতে পারলাম। অবশ্যই এ বিষয়ে এলজিইডির দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হবে সেই সাথে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।