রবীন্দ্রসংগীতের পর কেকের গানেরও বারোটা বাজালেন হিরো আলম (ভিডিও)

697

হেরে গলায় গান গেয়ে লোক হাসানোই যেন তার কাজ! বিশ্বখ্যাত টাইটানিক সিনেমার গান থেকে শুরু করে আরবি গান এমনকি সম্প্রতি রবীন্দ্রসংগীত পর্যন্ত বেসুরো গলায় গেয়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন দেশের জনপ্রিয় এই ইউটিউবার।

কিন্তু কোনো কিছুতেই হিরো আলমকে থামানো যাচ্ছে না। হেরে গলায় গানের জন্য যত বেশি বিতর্কিত হচ্ছেন তত বেশি সাহসী হয়ে উঠছেন তিনি। কঠিন কঠিন সব গান তিনি অবলীলায় গেয়ে চলেছেন সুর, লয়, তাল এমনকি গানের কথার তোয়াক্কা না করেই। ভুলভাল সুর আর কথায় তার গান শুনে নেটিজেনরা রীতিমতো ধুয়ে চলেছেন তাকে। কিন্তু তাতে যেন তার কিছুই আসে যায় না। তিনি দ্বিগুণ উৎসাহে নতুন কোনো চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

তারই ধারাবাহিকতা হিরো আলম এবার সদ্যপ্রয়াত বলিউড প্লেব্যাক গায়ক কেকেকে উৎসর্গ করে একটি গান গেয়েছেন। বলাই বাহুল্য সুর, তাল ও লয়বিহীন গানটি শুনে বরাবরের মতো এবার তার দিকে তেড়ে এসেছেন নেটিজেনরা। কড়া কড়া সব মন্তব্য করে রীতিমতো ধুয়ে দিচ্ছেন তাকে।

বহু জনপ্রিয় গানের সংগীতশিল্পী কেকের হঠাৎ মৃত্যুর পর শোকে থমকে যায় বলিউড। পাশাপাশি কলকাতা এবং বাংলাদেশেও তাকে নিয়ে চলে শোকের মাতম। দুই বাংলার অনেক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীই সোশ্যাল মিডিয়ায় গানে গানে শ্রদ্ধা জানান অকালপ্রয়াত কেকেকে।

তাদের দেখাদেখি কিনা কে জানে, কেকের প্রতি শোক প্রকাশের মিছিলে হিরো আলমও যোগ দেন তার হেরে গলাকে হাতিয়ার করে। কারণ তিনি কুখ্যাত ভাইরাল গায়ক। আলম সাহেবের গান মানেই যে সুপারহিট! তাই তিনিও কেকের গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে তিনি গানটি এতটাই বেসুরো কণ্ঠে গেয়েছেন যে, নেটিজেনরা হিরো আলমের এই কান্ডকে শ্রদ্ধা না বলে ‘গানের শ্রাদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হৃত্বিক রোশান ও বারবারা মোরি অভিনীত বলিউডের জনপ্রিয় ‘কাইটস’ ছবির ‘জিন্দেগি দো পাল কি’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কেকে। তার আরও অনেক গানের মতো ‘জিন্দেগি দো পাল কি’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কঠিন সেই গানটিই নিজের কণ্ঠে ধারণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই ভাইরাল গায়ক।

অসাধারণ সুরেলা গানটির সুরেরই শুধু বারোটা বাজাননি হিরো আলম, তোতলা কণ্ঠে ভুলভাল উচ্চারণও করেছেন। যেমন মূল গানের একটি লাইনে বলা হয়েছে, ‘ইনতেজার ”কাব তাক” হাম কারেঙ্গে ভালা’। আর হিরো আলমের কণ্ঠে সেই লাইন হয়ে গেছে ‘ইন্তিজার ”কাপ তাপ” হাম কারেঙ্গে ভালা।

হিরো আলমের কণ্ঠে বেসুরো ওই গান শুনে ক্ষিপ্ত এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, কেকের গানের পিন্ডি চটকে গুষ্ঠী উদ্ধার করেছেন হিরো আলম। আরেকজনের মন্তব্য অনেকটা এরকম- কেকের গানের গুষ্ঠীর ষষ্ঠী পুজা করে ছেড়েছেন বাংলাদেশের ভাইরাল গায়ক হিরো আলম। আরেক নেটিজেনের ক্ষুব্ধ মন্তব্য, ভাগ্যিস কেকে মারা গিয়েছেন। না হলে হিরো আলমের গান শুনলে নিজেই বিষ খেতেন। হিরো আলম এই গান গেয়ে কেকেকে অপমান করেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন নেটিজেনরা। কেকের গান নষ্ট করার অভিযোগও তোলা হয়েছে হিরো আলমের বিরুদ্ধে।

কিছুদিন আগেই হেরে গলায় ‘আমার পরান যাহা চায়’ রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে নেটিজেনদের কাছ থেকে এরকমই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন হিরো আলম। তখন নেটিজেনদের মন্তব্য ছিল, রবীন্দ্রনাথ যদি এই গান শুনতেন তাহলে নিঃসন্দেহে সুইসাইড করতেন।

এত এত সমালোচনার পরও হিরো আলম নিজের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তার দাবি, রবীন্দ্রনাথের গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি গাননি। কারণ তিনি নিজেকে সংগীতশিল্পী ভাবেন না। নিছক বিনোদন দেওয়ার উদ্দেশ্যেই শখের বশে গানটি গেয়েছেন তিনি। রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইলে তার নামে মামলা হতে পারে- এমন সম্ভাবনা আছে জানার পরও তিনি ঝুঁকি নিয়েই গানটি গেয়েছেন শুধুমাত্র ভক্তদের আনন্দ দিতে। পরে অবশ্য ক্ষমাও চেয়ে নেন তিনি।

রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার পর সমালোচনার ঝড় উঠলে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেন হিরো আলম। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমি গায়ক বা শিল্পী নই। সেই দাবি আমি কখনো করিনি, করছিও না‌। আমি শুধু বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করি। সবার মতো আমিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের ভক্ত। আমি যেহেতু সব ভাষায় গান গেয়েছি তাই চেষ্টা করেছি রবীন্দ্রসংগীত আমার ভক্তদের উপহার দিতে।

হিরো আলম আরও বলেন, আমি বাঙালি‌। সবার মতো আমারও রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার অধিকার আছে। আমি আমার মতো করে সেটাই চেষ্টা করেছি। যদি কোনো ভুল হয় তাহলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। হিরো আলম যখন এই পৃথিবীতে থাকবে না তখন আপনারাই এই গানগুলো শুনে আমার কথা মনে করবেন।