মৌলভীবাজারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা

123

এ.এস.কাঁকন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি : দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার দাবিতে মৌলভীবাজার জেলার ৯২টিসহ সারাদেশের সব চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

শনিবার (১৩ অগাষ্ট) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা চায়ের পাতা উত্তোলন ও চা ফ্যাক্টরীতে কাজে যোগ না দিয়ে আঞ্চলিক মহা সড়ক ও ফ্যাক্টরী এলাকায় তাদের ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষে অবস্থান নেন। আর দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনায় বিভিন্ন বাগান থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। সমাবেশে চা শ্রমিকরা বলেন সাপ্তাহিক ছুটির দুদিনের মধ্যে তাঁদের দাবী তিনশত টাকা মজুরী বৃদ্ধি না মানলে আগামী মঙ্গলবার থেকে আবারও তাঁরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করবেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি পংকজ পন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা সহ বিভিন্ন ভ্যালী থেকে আসা চা শ্রমিক নেতারা। এসময় চা শ্রমিক নেতারা বলেন, প্রায় ১৯ মাস ধরে মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলেও আমাদের দাবি মেনে নেয়া হয়নি। চা শ্রমিকরা কী নিদারুণ কষ্টে আছেন তা মালিকপক্ষ ও সরকারকে বোঝা উচিত। বাধ্য হয়েই আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছি। মনু ধলাই ভ্যালীর সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, চা-শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির এই দাবি দীর্ঘদিনের। ৩শত টাকা মজুরি, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধাসহ আর কিছু বিষয়ে আমরা লিখিত দাবি জানিয়ে আসছি। তবে মালিকপক্ষ এই দাবি না মানার কারণে মজুরি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বারবার কথা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন না করায় বাধ্য হয়েই আমরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা। প্রতি দুই বছর পর পর চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি হওয়ার কথা। বর্তমানে মজুরি চুক্তির মেয়াদ প্রায় ১৯ মাস পার হয়েছে। এর মধ্যে সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে দৈনিক মজুরি ৩শত টাকা করার দাবি তুলেন চা শ্রমিকরা। এই দাবি আদায়ে তাঁরা গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সব চা বাগানে টানা চার দিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। কিন্তু এতে সাড়া না মেলায় দেশের ১৬৭টি চা বাগানে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে এ একযোগে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল।