আমদানিকৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির সময় আটক ৩

97
রাতে গাড়ির ড্রাইভার ও শ্রমিক সেজে জেটির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা বন্দরে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে পিক-আপে উঠিয় বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা কর্মীর হাতে ধরা পড়ে।
রাতে গাড়ির ড্রাইভার ও শ্রমিক সেজে জেটির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা বন্দরে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে পিক-আপে উঠিয় বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা কর্মীর হাতে ধরা পড়ে।

মোঃ এনামুল হক, মোংলা প্রতিনিধি : মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্যরা তাদের আটক করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বিভাগের উপ পরিদর্শক মোঃ আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে মোংলা থানায় মামলা করেছেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- পিরোজপুর সদরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ রাজু (৩০), বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুলতান আহম্মেদের ছেলে মোঃ জসিমউদ্দীন ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হুমায়ূন কবিরের ছেলে ফাহিম শেখ (২৫)।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা (সিএসও) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মেহেদি বলেন, একটি চক্র এ বন্দরের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এসব অপকর্ম করে আসছিলেন। ওই চক্রের সদস্যরাই সোমবার রাতে গাড়ির ড্রাইভার ও শ্রমিক সেজে জেটির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা বন্দরে আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে পিক-আপে উঠিয় বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা কর্মীর হাতে ধরা পড়ে। এসময় তাদের হাতে আটক হওয়া খুলনা মেট্রো- ন ১১-০৭০৭ নম্বরের পিক-আপটি থেকে চারটি নেভিগেশনাল সফটওয়্যার এসডি কার্ড, দুটি রিমোট চাবি, চারটি চার্জার, একটি চার্জার ক্যাবল, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি সিগন্যাল লাইট, একটি ক্যামেরা, ১৪ টি কার্টার ব্লেড ও একটি ছাতা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) মোংলা থানায় মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মেহেদি।

তিনি বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তার কারণে চুরিসহ সব প্রকারের অপকর্ম কমে আসায় গাড়ি আমদানিতে এই বন্দর রেকর্ড গড়েছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারবিডার) লিয়াজোঁ কর্মকর্তা শেখ আবেদুর মুবিন জানান, সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের থেকে মোংলা বন্দর এগিয়ে থাকায় এই বন্দর ব্যবহার করছেন তারা। কিন্তু আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ার ঘটনায় তাদের হতবাক করেছে। এই চোরাই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এসব অপকর্ম করে আসছে। দ্রুত এসব বন্ধ করা না গেল তারা মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসহ হারাবেন বলে জানান তিনি।

বারবিডার এই প্রতিনিধি আরও বলেন, আমদানি হওয়া রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খালাসকালে তাদের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলে এই চুরির ঘটনা আর ঘটবে না। বন্দরের কঠোর নিরাপত্তার কারণে ৮০ শতাংশ চুরি হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন বাকি ২০ শতাংশ চুরি ঠেকানো গেলে গাড়ি আমদানি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

মোংলা থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির দায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিনজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে আজই জেলে পাঠানো হবে।