মোংলায় ইয়াবা রেখে দোকানীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

196

মোংলা প্রতিনিধি : মোংলায় দোকানে ইয়াবা রেখে এক তরুন ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে মোংলা প্রেস ক্লাব হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শিউলী ইয়াছমীন নামের এক গৃহিনী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ছেলের মুক্তি জন্য আহাজারী করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় তার পুত্র বধু তাসলিমা বেগম ও৫ বছর বয়সের নাতনীও উপস্থিত ছিলেন। তারাও অঝোরে কাঁদলেন এ সংবাদ সম্মেলনে। 

ন্যায় বিচারের দাবী নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিউলী ইয়াছমীন বলেন, সম্প্রতি বন্দর বিপনী মার্কেটে লটারীর মাধ্যমে একটি দোকান ঘর বরাদ্দ পাই। চরম অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে গত মঙ্গলবার ধার দেনা করে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ওই দোকানে ওঠানো হয়। ওইদিন বিকেলে দোকানে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্ত বেলা ১১ টার দিকে মালামাল গোছানো ও মিলাদের জন্য প্রস্তুতি নিতে আমার ছেলে আব্দুল আলীম ব্যস্ত থাকার সুবাদে স্থানীয় যুবক ফরিদ দোকানের ভিতরে প্রবেশ করে। ওই যুবক দোকানের ভিতরের একটি কৌটা নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলে আমার ছেলের নজরে পড়ে এবং তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সে দ্রুত চলে যায়। বহিরাগত ওই যুবকটি দোকান ত্যাগ করতে না করতেই সাদা পোশাকদারী ৫/৬ জন অপরিচিত লোক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিচয়ে দোকানে থাকা মালামালের ভিতরে তল্লাশী শুরু করে। এক পর্যায়ে যুবক ফরিদের নাড়াচাড়া করা সেই কৌটা তুলে তাতে মাদক (ইয়াবা) রয়েছে বলে আমার ছেলেকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে চড়থাপ্পর মারতে থাকে তারা।

এতে প্রতিবেশী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ হতভম্ব হয়ে পড়েন।তিনি আরো বলেন, এ খবর পেয়ে পুত্রবধুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুনয় বিনয় করলে তারা অপমানজনক আচরণ ও প্রকাশ্যে লাঠি পেটার হুমকি দেয়। পরে দিগরাজে তাদের ভাড়া বাড়ীতেও তল্লাশী এবং তছনছ করে তারা। এক পর্যায়ে তারা ছেলেকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারি দোকানের সেই কৌটা থেকে ৪৫ পিচ ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়ছে। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে গৃহিনী শিউলী ইয়াছমীন আরো বলেন, বন্দর বিপনী মার্কেটের একটি দোকান ঘর ব্যবহার করে শ্রাবন নামের এক যুবক দীর্ঘদিন নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও অপরাধী চক্রের তৎপরতায় ওই মার্কেটে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার অপকর্ম ও অপতৎপরতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি ও আমার পরিবার রোশানলসহ ইতিমধ্যে কয়েক দফায় হামলার শিকার হয়েছি। তার বিরুদ্ধে আমি ও আমার ছেলের দায়ের করা দুইটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এই শ্রাবনের সঙ্গে আমার দোকানে অনুপ্রবেশকারী যুবক ফরিদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে, তা স্থানীয় ও প্রতিবেশীরা সকলে জানেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রাবন ও ফরিদ একাধিকবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের সঙ্গে কানাঘুষা করেন। এ দৃশ্য উপস্থিত অনেকেই দেখেছেন। এরা দুইজন মিলে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ছেলের নতুন দোকানের ভিতরে ইয়াবা লুকিয়ে রেখে মামলায় ফাঁসানোসহ সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছে।  তিনি অভিযোগ করে বলেন, শ্রাবন নামের ওই যুবক বিভিন্ন সময় নানা ধরণের লোকজন ব্যবহার করে অন্যকে জব্দ করতে বন্দর কর্তৃপক্ষসহ নানা দপ্তরে কাল্পনিক অভিযোগ দায়ের করিয়ে হয়রানী করে থাকে। তার এমন হয়নারী হতে রক্ষা পায়নি বন্দরের কর্মচারীরাও। তার চক্রান্তে স্থায়ী বন্দর বিপনী মার্কেট এলাকার প্রায় ৭০টি পরিবার উচ্ছেদসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। একইভাবে আমার ছেলেকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে ঘটনার ওই দিনই আমার দোকানের বরাদ্দ বাতিলসহ সদ্য খোলা দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয় প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের নজর ও সুষ্ঠু তদন্তে মিথ্যা এবং হয়রানীমুলক মাদক মামলা হতে পরিত্রাণ পাবে তার অসহায় পরিবার সংবাদ সম্মেলনে এমটা প্রত্যাশা করেন শিউলী ইয়াছমীন।