মুন্সিগঞ্জে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

95
মুন্সিগঞ্জে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
মুন্সিগঞ্জে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মোহাম্মদ সুজন, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জে সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে নাহাপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে।

প্রভাবশালীরা অবাধে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে রাস্তা, ফসলি জমি, মসজিদ এবং ঘরবাড়ি। ভুক্তভোগীরা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অবৈধ ড্রেজার দিয়ে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর, দীঘি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের মদিনা বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে দীঘি এবং সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে করছে। এতে দিঘীর দুই পাশের রাস্তা, মসজিদ, আবাসিক ভবন ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় মাটি দেবে যেতে পারে কিংবা ঘরবাড়ি ভেঙে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও বালু ও মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন। সারা দিনরাত ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি কাটার কারণে দীঘির দুই পাশে রাস্তা, মসজিদ, ফসলি জমি ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে। মাঝে মাঝে প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে মেশিনপত্র জব্দ করা হলেও দুই-তিন দিন পরই আবার পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়। এ অবস্থা বিরাজ করলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দীঘির দুই পাশের রাস্তা, পাশের ফসলি জমি, ভিটে ও বাড়িঘর ধসে বিলীন হযে যাবে।

দিঘীর পাশের বাড়ি আসমা জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সদর থানা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি কমিশনার ভূমি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

আসমা বেগম আরও জানান, বেআইনিভাবে ড্রেজার বসিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন দীঘি হতে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে দেদারছে। তার শ্বশুরের জায়গা থেকেও জোর পূর্বক পেশী শক্তির বলে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ফসলি জমি ও ধানী জমি অনেকাংশে ইতিমধ্যে দেবে গেছে এবং ফাটল ধরেছে। বাড়িঘরও বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে কোনো সময় বাড়ি ও বসতভিটা, ফসলি জমি বিলীন হয়ে পুকুরে নেমে যাবে।

ড্রেজার দিয়ে দীঘি থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনে বাধা দিলে অকথ্য ভাষায় নোংরা ও অশালীণ ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করতে উদ্যত হয়। এ বিষয় নিয়ে প্রশাসনের কাছে বেশি গেলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে লাশ গুম করে ফেলারও হুমকি দেয়। পুলিশ এলে তারা চলে যায়, পুলিশ চলে যাওয়ার পরক্ষণেই আবার ড্রেজার চালু করে এবং ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি প্রদান করে।

দীঘির মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকত হোসাইন মো. আল জুনায়েদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে লোক পাঠানোর পর দীঘির মাটি কাটার সত্যতা পেয়েছি। মাটি কাটা বন্ধ করে দিয়েছি। আবার মাটি কাটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের আদালতে মামলা করার পরামর্শ
দিয়েছেন বলেও জানান এই সরকারী কর্মকর্তা।