মির্জাগঞ্জ শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার ধুম

128
মির্জাগঞ্জ শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার ধুম
মির্জাগঞ্জ শেষ মুহূর্তে হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার ধুম

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : আর মাত্র একদিন পরই কোরবানির ঈদ। তাই শেষ মুহূর্তে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পশুর হাটগুলোতে চলছে বেচাকেনার ধুম। হাটগুলোতে উঠছে হাজার হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ। সেইসাথে হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার ঢল নেমেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং পশু মোটাতাজাকরণে খরচ বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় পশুর দাম বেশী হাঁকছেন তারা। 

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা এবার চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই সামর্থ অনুযায়ী গরু-ছাগল কিনতে হাটের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ঘুরছেন তারা। 

উপজেলার সুবিদখালী গরুর হাটে গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে ক্রেতারা। সামর্থ অনুযায়ী কোরবানি দিতে নিজেদের প্রিয় পশুটি কিনতে হাটের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ঘুরছেন ক্রেতারা। এই হাটে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার দামের ছোট ও মাঝারি ধরণের গরু দিকে ছুটছেন বেশিভাগ ক্রেতারা। দের লাখ টাকার অধিক দামের গরু কিনছেন শরিক হয়ে। এই পশুর হাটে বিপুল পরিমাণ গরু, মহিষ ও ছাগল বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা। চলছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দর কষাকষি। একদিকে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় যেমন পশুর দাম বেশী হাঁকছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বাজেট কম হওয়ায় পশুর মূল্য কম হাঁকছেন ক্রেতারা। তবে, সবকিছুর পরেও নিজেদের পছন্দমত পশু কিনে পরিবারের সাথে কোরবানী দিতে চান ক্রেতারা। এদিকে ঈদের আগ পর্যন্ত সময়ে ভাল বিক্রির আশা বিক্রেতাদের। গরুর বাজার তদারকিতে মাঠে রয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা। কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনেপশু ক্রয় বিক্রয়, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং মনিটরিংয়ের জন্য ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবছর কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার যে কয়টি বড় পশুর হাট রয়েছে তার মধ্যে দেউলী, সুবিদখালী লঞ্চঘাট, চৈতা, ভয়াং ও মহিষকাটা পশুর হাট। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনেক ছোট ছোট পশুর হাট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মনোহরখালী,  আমড়াগাছিয়া,  গুলিশাখালী পশুর হাটে গরু ও ছাগল  বিক্রি হচ্ছে। এসব পশুর হাটেও দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে ক্রেতারা জানান।

বিক্রেতা মো.কাদের খান জানান, এ বছর দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করতে অনেক টাকা খরচ করেছি। তাই কোরবানির হাটে পশুগুলোর দাম একটু বেশি রয়েছে। তবে আমাদের বেচা বিক্রি ভালোই চলছে।

বিক্রেতা মোঃ জয়নাল জানান, আমি ৫ টি ছোট গরু নিয়ে এসেছি। ক্রেতারা দামাদামি করে ৫ চলে যায়। সবাই বলে দাম বেশি চায়। গরু পালন করতে এবার গোখাদ্য দাম বেশি ছিলো বলেই গরুর গতবারের চেয়ে একটু দাম বেশি। ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পারলে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি, তবে শেষ পযর্ন্ত দেখি কপালে কি আছে। 

ক্রেতা মোঃ হাকিম হাওলাদার বলেন, এ বছর হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর সংখ্যা নেই বললেই চলে। হাট জুড়ে ঘুরতেছি, দেখছি দামাদামি করছি। দাম দরে মিলছেনা। বিক্রেতারা গত বছরের চেয়ে এ বছর পশুর দাম অনেক বেশি চায়। দেখি পছন্দমত পেলে কিনে নিয়ে যাব, কারণ কুরবানী তো দিতেই হবে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে বলেন, চাহিদার তুলনায় কুরবানির পশু বেশি আছে। কৃত্রিমভাবে পশু মোটা তাজাকরণ ও রোগাক্রান্ত পশু বাজারে বিক্রি করতে না পারে সে জন্য আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। 

মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, কুরবানিকে সামনে রেখে পশুর বাজারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে মানুষ পশু ক্রয়-বিক্রয় করে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারে সে লক্ষ্যে পুলিশবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে এবং জাল টাকার সাপ্লাই রোধেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।