মির্জাগঞ্জে এম.ভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের স্টাফদের হামলায় জেলে আহত

116

মোঃ আবদুর রহিম সজল, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নদীতে ইলিশ ধরার জাল কাটাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ববগুনা রুটের এম.ভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের স্টাফদের হামলায় মোঃ আরিফ হাওলাদার (২০) নামে এক জেলে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার ভয়াং লঞ্চঘাটে এ ঘটনা ঘটে। আহত আরিফ ভয়াং গ্রামের মোঃ জালাল হাওলাদারের ছেলে। বর্তমানে সে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই ওই জেলেকে লঞ্চের ভিতরে মারধরের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় ১০-১২ জন যুবক (লঞ্চের স্টাফ) মিলে ওই জেলেকে অতর্কিতভাবে মারধর করছেন আর ছেলেটি কান্নাকাটি করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু স্টাফরা তাকে ঘিরে ধরে একের পর এক কিল, ঘুসি, লাথি মারছেন ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। অনেকক্ষণ মারধর করার পরে ছেলেটি লঞ্চের ফ্লোরে লুটিয়ে পড়লেও তাকে টেনে তুলে আবারও মারধর করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এ হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আহত জেলে আরিফ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে আমরা নদীতে ইলিশ ধরার জন্য জাল ফালাই। লঞ্চ চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা রেখেই আমরা জাল পেতেছিলাম। কিন্তু এম.বি তরঙ্গ-৭ লঞ্চ সেই জায়গা দিয়ে না এসে আমাদের জালের উপর দিয়ে আসায় জেলেদের ৩-৪ টি জাল কেটে যায়। এরপর লঞ্চটি ভয়াং পল্টুনে ঘাট দিলে আমরা (৪ জন) এসে মাস্টারকে জাল কাটার বিষয় জিজ্ঞেস করলে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে লঞ্চের স্টাফরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমার সাথে থাকা অন্য জেলেরা দৌড়ে পালিয়ে গেলে আমাকে টেনেহিচড়ে লঞ্চের ভিতরে নিয়ে যায় এবং পল্টন থেকে লঞ্চ ছেড়ে দেয়। এরপর লঞ্চের ভিতর ১০-১২ জন স্টাফ মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে কাকড়াবুনিয়া পল্টুনে ঘাট দিলে স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে ভর্তি রাখেন। বর্তমানে আমার চিকিৎসা চলছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল ইলিশের জাল। সেটিও ওরা কেটে দিল আর আমাকেও মারধর করল। এখন আমি কি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করব সেই চিন্তায় ঘুম আসছে না। আমি হামলাকারীদের কঠিন বিচার চাই এবং আমার জাল ফেরত চাই। আমি জাল না পেলে আমার পরিবার পরিজন না খেয়ে মরবে।

এম.ভি তরঙ্গ-৭ লঞ্চের কেরানী মোঃ এনায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জেলেরা প্রথমে আমাদের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এ সময় প্রতিহত করার জন্য আমাদের যা করা দরকার সেটাই করেছি। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেছি। তিনি বলেছেন দ্রুত সমাধান করে দিবেন।