মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নের মৃত্যু

125
মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নের মৃত্যু
মামার লাঠির আঘাতে ভাগ্নের মৃত্যু

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলায় মাত্র দুই শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মামার লাঠির আঘাতে খালেদ মাসুম (১৮) নামে ভাগ্নের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে নিহতের মামা শের আলীসহ ৮ জনকে আসামী করে বুধবার (২০ জুলাই) রাতে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত মাসুম উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ছাতনাই বাংলাপাড়ার গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে মাত্র দুই শতাংশ জমি নিয়ে একই এলাকার বাসিন্দা শ্যালক শের আলীর সাথে ভগ্নিপতি মনোয়ার হোসেনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। তা সমঝোতা করে দেয়ার চেষ্টা না করে উল্টো শের আলীর মাকে তৃতীয় বিয়ে করা তার সৎ বাবা ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াহেদ আলী ছেলেকে দ্বন্দ্বে উস্কে দিয়ে আসছিলেন। গত বুধবার সকালে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষের সম্মতিতে শালিসের মাধ্যম তা নিষ্পত্তি করে দেন উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান।

সেখানে শের আলীর পক্ষে তার সৎ বাবা ওই ইউপি সদস্য,তার অপর ভগ্নিপতি-বোনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। শালিশ শেষে ইউপি সদস্য কৌশলে পরিষদ প্রাঙ্গণে থেকে গেলেও তার সাথে থাকা শের আলীসহ অন্যরা দুপুরে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে ফেডারেশন বাজার সংলগ্ন স্থানে মনোয়ারের ছেলে মাসুমের দেখা হলে উভয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তা রূপ নেয় হাতা-হাতিতে। এ সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই মামা শের আলী পাশে থাকা কাঠের লাঠি দিয়ে ভাগ্নে মাসুমের ঘাড়ে একাধিক আঘাত করলে মাসুম মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে ডিমলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নেয় ময়না তদন্তে পাঠানোর জন্য। ওইদিন দিবাগত রাতেই নিহতের বাবা মনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে ৮ জনকে আসামি করে ডিমলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-২৭,তারিখ ২০/৭/২০২২ইং।

নিহত মাসুমের বাবা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে শের আলীসহ যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। এর আগেও আমাকে ফাঁসাতে আমার নামে ইউপি সদস্য মিথ্যে মামলা করেছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন বলেন, মনোয়ারের নিজের মাত্র দুই শতাংশ জমিতে বসতবাড়ি করে বসবাসের উপযোগি না হওয়ায় সকালে পরিষদে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাকে দুই শতাংশ জমি ক্রয় মূলে দেয়ার শর্তে দীর্ঘদিনের বিরোধ শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়।

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন।আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।