মানিকগঞ্জে পুলিশের উদ্যোগে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

87

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এজন্য মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় বাঘিয়া গ্রামে নির্মিত হচ্ছে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। সম্পূর্ণ অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানগুলো পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হবে। এ নিয়ে বুধবার দুপুরে স্থান পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্চের ডিআইজি ( অর্থ) মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা সদরের বাঘিয়া গ্রামে প্রস্তাবিত মাদকাসক্তি পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য স্থান পরিদর্শন ও জমি ক্রয়সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (ফিন্যান্স) মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এআইজি (ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রজেক্ট) মো. আলমগীর কবীর, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু, স্থানীয় ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল কাদের, জমিদাতা মো. দলিল শিকদার, হাসু শিকদার ও স্নাতকের ছাত্রী উপমা শিকদার।

জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস নির্মূল করা পুলিশের অন্যতম কাজ। প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার ও মাদকব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ ব্যতিক্রমী উদ্যাগ নিয়েছে। এ জন্য জেলা সদরের বাঘিয়া গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর তীরে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ২১০ শতক জমি বন্দোবস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৬ শতক জমি স্থানীয় বৃদ্ধ দলিল শিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা দান করেছেন্। বাকি ১২৪ শতক জমি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে কেনা হয়েছে। আরও জমি কেনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (ফিন্যান্স) মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এখন জমি কেনা হচ্ছে। জমি কেনা শেষ হলে স্থাপনা নির্মাণে নকশা প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি হবে আন্তর্জাতিক মানের। মাদকাসক্ত তরুণ-তরুণী ও ব্যক্তিরা এই নিরাময় কেন্দ্রে পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসবে।